খালুর বিরুদ্ধে মেয়ে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করায় বাবার জেল

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে খালুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাবা। আদালতে মামলাটি মিথ্যা হওয়ায় বাবাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মিনহাজুর রহমান মামলার বাদী বাবা কেরামত আলীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

তিনি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ বিলাসীর হাজারী পাড়া গ্রামের লস্কর আলীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এখন পলাতক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেরামত আলী ২০১৬ সালের ৯ মার্চ দেবীগঞ্জ থানায় নিজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩) মেয়েকে একই বছরের ৩ মার্চ রাত সাড়ে ৮টায় ভুট্টাক্ষেতে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মেয়ের খালু একই উপজেলার প্রধানপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মোশারফ হোসেন বাদী কেরামত আলীর ভায়রা ভাই। ওই ভুক্তভোগী ২০১৭ সালের ১১ জুলাই অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমার বাবা খালুর বিরুদ্ধে এই মামলা আনয়ন করেছেন। আসামি আমার খালু। তিনি আমার কোনো ক্ষতি করেননি।’

এই স্বীকারোক্তি প্রদানের পর আদালত সিআর ৪৬১/১৭ নামে একটি ২১১ ধারায় মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠান।

বাদী পক্ষে এপিপি মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে সারোয়ার হোসেন মামলাটি পরিচালনা করেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘এমন রায়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমে আসবে। এই রায়ে আমি আইনজীবী হিসেবে খুবই খুশি।’

 কেরামতের মোবাইলে কল দিলে তার ছেলে শাহিন ফোন ধরে বলেন, বাবা ঢাকায়। তিনি মামলার রায় শুনেছেন।