তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালে ১ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর বিভিন্ন রোগব্যাধী ও অকাল মৃত্যুতে বার্ষিক ব্যয় ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের সভাপতিত্ব করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগ ও মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘দ্য ইকোনমিক কস্ট অব টোব্যাকো ইউজারস ইন বাংলাদেশ: আ হেলথ কস্ট অ্যাপ্রোচ’ শিরোনামে টোব্যাকো এটলাসের ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১৫ লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ তামাক সেবনের কারণে এবং ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত গঠন করে সারা দেশে হাসপাতালগুলোয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনিটরিং সেল সব হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও ওষুধ ক্রয়–সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করছে। এর ফলে বর্তমানে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি দলের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ২০১৯ সালে মিটফোর্ডসহ সারা দেশে নকল–ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ হাজার ১৪৫টি মামলা দায়ের করে ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৪ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ৩৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। আনুমানিক ৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের নকল–ভেজাল ওষুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) গাইডলাইন অনুসরণ না করায় ৪১টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওষুধ উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, চেম্বারে চিকিৎসকদের রোগী দেখা বাবদ ফি আদায়ের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী জেনারেল প্র্যাকটিশনার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লেভেল পর্যন্ত সর্ব মহলে গ্রহণযোগ্য রোগী দেখার ভিজিটের হার নির্ধারণের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।