নওগাঁ জেলার মান্দায় সাড়ে চারশ বছরের ঐতিহ্য এবং স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ‘কুসুম্বা মসজিদ’। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা সেতুর পশ্চিম দিকে ৪০০ মিটার উত্তরে মসজিদটির অবস্থান। আর জেলা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এর আরেক নাম কালাপাহাড়। কুসুম্বা মসজিদকে নওগাঁ জেলার ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বলা হয়। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৪২ ফুট। চারদিকের দেয়াল ছয় ফুট পুরু। মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে তিনটি দরজা।
কুসুম্বা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি পুরাকীর্তি। চারদিকের দেয়ালের ওপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সামনে থাকা তিনটি দরজার মধ্যে দুটি বড়, একটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মিহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোণার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ছয়টি গম্বুজ; যা দুটি সারিতে তৈরি।
মসজিদের মূল গাঁথুনি ইটের তৈরি হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও পাশের দেয়ালের জালি-নকশা পাথরের তৈরি। আয়তাকার এ মসজিদ তিনটি ‘বে’ ও দুটি ‘আইলে’ বিভক্ত। পূর্বদিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ আছে।
কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দেয়াল থেকে সামান্য অবিক্ষিপ্ত। মসজিদের অভ্যন্তর ভাগের পশ্চিম দেয়ালে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এবং মাঝের প্রবেশপথ বরাবর মেঝের সমান্তরালে দুটি মিহরাব আছে। তবে উত্তর-পশ্চিম কোণে থাকা মিহরাবটি একটি উঁচু প্ল্যাটফরমের মধ্যে স্থাপিত। পূর্বদিকে স্থাপিত একটি সিঁড়ি দিয়ে এই প্ল্যাটফরমে ওঠা যায়। মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশা দিয়ে ব্যাপকভাবে অলংকৃত। কারুকার্যখচিত পাথরের তৈরি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত এ খিলানগুলোর শীর্ষে রয়েছে কলস-মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলোর গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ও ঘণ্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রয়েছে সর্পিল আকারে খোদিত আঙুরগুচ্ছ ও লতার নকশা। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ মসজিদের নির্মাণকাল ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দ)। সে হিসেবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৭৪ বছর।