সম্প্রতি নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনা দেশ জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন বৃদ্ধা মা, যিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো সন্তানের জন্য ব্যয় করেছেন, তার মৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলো পুরো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন মানুষ পদমর্যাদায় বড় হচ্ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক দায়িত্ববোধে ছোট হয়ে যাচ্ছে।
ইসলাম মায়ের মর্যাদাকে এমন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা অন্য কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমার উত্তম আচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ তৃতীয়বারও একই উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ এরপর চতুর্থবার বললেন, ‘তোমার বাবা।’ (সহিহ বুখারি)
এই হাদিসের মধ্যে সভ্যতার ভিত্তি নিহিত আছে। ইসলাম বলতে চেয়েছে, মায়ের অধিকার এতটাই মহান যে তাকে তিনবার উল্লেখ করতে হয়েছে। কারণ মা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের জন্য নিজের ঘুম, স্বস্তি, স্বাস্থ্য এবং জীবনের অসংখ্য স্বপ্ন ত্যাগ করেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তারই ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না।” (সুরা বনি ইসরাইল ২৩)
লক্ষ্য করার বিষয় হলো, মহান আল্লাহ নিজের ইবাদতের নির্দেশের পর পরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের কথা বলেছেন। অর্থাৎ এটি কোনো ঐচ্ছিক নৈতিকতা নয়, এটি ইমানের দাবির অংশ।
নূর জাহান বেগমের ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। একজন মা কি তার সন্তানের কাছে শুধু অর্থের দাবিদার? শুধু ভরণ-পোষণ দিলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? ইসলাম এর উত্তর দেয়, না। বাবা-মায়ের প্রয়োজন শুধু খাবার বা ওষুধ নয়, তাদের প্রয়োজন সন্তানের সঙ্গ, খোঁজখবর, ভালোবাসা ও সম্মান।
যদি কোনো সন্তান তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে একাকীত্বের মধ্যে ফেলে রাখে, তাদের কষ্ট ও অসহায়ত্বের প্রতি উদাসীন থাকে, তবে সে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়। পদ, পরিচয়, ডিগ্রি কিংবা সামাজিক মর্যাদা তখন কোনো গৌরবের বিষয় থাকে না, বরং তা আরও বড় জবাবদিহির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অসুস্থ মায়ের যত্ন নেয়নি সন্তানরা, সম্পত্তি পাচ্ছে কুকুর-বিড়াল
মায়ের তুলনা হয় না