সিন্ডিকেটে বঞ্চিত প্রকৃত কৃষক

মৌলভীবাজারে আমন কেনায় অনিয়ম

মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, ধান ব্যবসায়ী ও সরকার দলের একটি অংশের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রকৃত আমন চাষিদের বাদ দিয়ে কৃষক তালিকা তৈরি করে। এতে ক্ষুব্ধ প্রকৃত আমন চাষিরা এর প্রতিবাদ করেন। তালিকার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারদলীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের আমন ধান ক্রয় করা নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। পরে অভিযোগ পেয়ে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতার তালিকা স্থগিত করলে এই সিন্ডিকেট ধান বিক্রি করতে পারেনি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আমন ধান ক্রয়ের জন্য ৯ হাজার কৃষক থেকে ১ হাজার ৪১৭ জনের তালিকা করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। তালিকার প্রকাশের পর এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরই মধ্যে ভুয়া কৃষকদের ৪০টি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

আমন কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এই সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য প্রকৃত কৃষকদের ঠকিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া।

রাজগরের মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায় তালিকায় অর্ধেকের বেশি ভুয়া কৃষক। এমনকি একটি ফোন নম্বর দিয়ে তালিকায় ঢুকেছেন ৫৭ জন।

শুধুমাত্র ফতেহপুর ইউনিয়নে লটারিতে অংশ নেয় ২২৫ জন কৃষক। এর মধ্যে মনোনীত হন ৩৬ জন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই করে দেখা যায় এর মধ্যে ২০ জনই ভুয়া। যাদের আমন চাষ নেই, আবার কেউ কেউ বিদেশে থাকেন। একই চিত্র উপজেলার বাকি সাতটি ইউনিয়নেরও।

ফতেহপুর ইউনিয়নের ছোয়াব আলী গ্রামের কৃষক জলাল মিয়া বলেন, যারা মনোনীত হয়েছে তাদের অধিকাংশের কৃষি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। কোনো কোনো কৃষককে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়েও কার্ড হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব কার্ড লটারিতে মনোনীত হলে সাধারণ কৃষকদের থেকে অল্প টাকায় ধান কিনে সিন্ডিকেট চক্র সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিতে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে জানা যায়, তালিকায় ভুল ছিল না। কিন্তু হাতে লেখা তালিকা প্রিন্ট হয়ে আসার সময় এটা বদলে যায়। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ হাতে লেখা তালিকা প্রিন্টের জন্য দেওয়া হয় উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অসীম তালুকদারকে। তার হাত থেকে যখন প্রিন্ট হয়ে আসে তখন দেখা যায় এতে অসংখ্য ভুয়া কৃষক ।