বাসচাপায় প্রাণ গেল মা-ছেলে-ভাগ্নির

বরগুনার আমতলীতে বাসচাপায় মা-ছেলে-ভাগ্নি নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের চৌরাস্তা নামক স্থানে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মা নূপুর বেগম (৩০), ছেলে হাসিন (১০) ও নূপুরের বড় বোনের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী লামিয়া (১৫)। এ ঘটনায় নূপুরের মেয়ে মমতাসহ (৬) আহত হয়েছে আরও তিনজন। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা মায়ের দোয়া পরিবহনের ওই বাসটি পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী একে স্কুলের গতিরোধকের কাছে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে বাসটি দুটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশা দুটি দুমড়ে-মুড়চে যায়। এসময় চলন্ত অবস্থায় বাসটি রেখে আসন ছেড়ে পালায় বাসটির চালক। এরপর চালকবিহীন বাসটি সামনের দিকে চলতে চলতে সাতজন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়।

নূপুরের খালা বেবি আক্তার দেশ রূপান্তরকে জানান, নূপুর তার ছেলেমেয়ে নিয়ে শুক্রবার গাজীপুর বন্দরের এক আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। ওই বাড়ি থেকে শনিবার সকালে মাহেন্দ্র গাড়িতে আমতলী এসে স্কুলে নেমে বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেট কার খাদে পড়ে এক দম্পতি, কুষ্টিয়ায় গরুবোঝাই নছিমনের ধাক্কায় ইউসুফ আলী শেখ ওরফে আফা (৮২) নামে এক পথচারী, সিরাজগঞ্জে ব্যাটারিচালিত ভ্যান উল্টে মদিনা খাতুন (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী, গাজীপুরে লরির ধাক্কায় আবুল কাশেম (২৬) নামে এক কলেজছাত্র, সুনামগঞ্জে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী, মাদারীপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নারায়ণগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় দম্পতি নিহত : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেট কার খাদে পড়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই দম্পতির মেয়ে।

নিহতরা হলেন রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার ধ্রুব কান্ত সাহা (৬০) ও তার স্ত্রী অজন্তা সাহা (৪৫)। আহত স্বর্ণালী সাহাকে (২১) স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে নিজেদের প্রাইভেট কারে করে মেয়ে স্বর্ণালীকে নিয়ে নরসিংদী থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল ওই দম্পতি। ঢাকা-বাইপাস সড়কের কালাদী পৌঁছালে বিপরীতমুখী একটি ট্রাক তাদের প্রাইভেট কারটিকে ধাক্কা দিলে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ধ্রুব ও অজন্তা মারা যান।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, লাশ দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় নছিমনের ধাক্কায় পথচারী নিহত : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গরুবোঝাই নছিমনের ধাক্কায় ইউসুফ আলী শেখ ওরফে আফা (৮২) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাহিনী দবির মোল্লা রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ আলী স্থানীয় পশ্চিম লাহিনী পাড়া গ্রামের আদু শেখের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া থেকে কুমারখালীগামী শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গরুভর্তি নছিমন পেছন থেকে পথচারী ইউসুফ আলীকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কুমারখালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নছিমনটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।

সিরাজগঞ্জে অটোভ্যান উল্টে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্থানীয় রতনকান্দি বাজার ব্রিজের কাছে গত শুক্রবার রাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উল্টে পড়ে গিয়ে মদিনা খাতুন (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৫ শিশু আহত হয়েছে। নিহত মদিনা খাতুন উপজেলার মোয়াকোলা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আহতরা হলো মরিয়াম খাতুন (৪), শারমিন (৮), শাহনাজ (১৩), শাকিলা (১৫), সিয়াম (৩) ও আয়শা (১০)। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে রতনকান্দি বাজার থেকে কয়েকজন শিশুকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ওই অটোভ্যানটি মোয়াকোলা গ্রামে যাচ্ছিল। এ সময় বাজারের পাশের ব্রিজে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ওই স্কুলছাত্রীসহ ছয় শিশু আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা মদিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাজীপুরে লরির ধাক্কায় কলেজছাত্র নিহত : গাজীপুরে লরির ধাক্কায় আবুল কাশেম (২৬) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর জাজরের মৈরান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম নগরীর বনমালা দত্তপাড়া এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। তিনি টঙ্গী সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি খ-কালীন চাকরি করতেন।

গাছা থানার এসআই গোলাম রসুল দেশ রূপান্তরকে জানান, জাজর থেকে ধীরাশ্রমগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজির পেছনে ১৪ চাকার লরি ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়েন আবুল কাশেম। পরে তাকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায় লরিটি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গাড়িটি জব্দ করতে পারলেও চালক পালিয়ে যায়। পরে স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আমেরিকাপ্রবাসীসহ নিহত ২ : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দিরাই-মদনপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

নিহতরা হলেন উপজেলার নাগেরগাঁও গ্রামের আমেরিকাপ্রবাসী মুমিন মিয়া (২৮) ও তারেশ দাস (৩০)। আহত হন বদলপুর গ্রামের মুকুল মিয়াকে (২৭) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দিরাই-মদনপুর সড়কের সুজানগর এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ওই পিকআপ ভ্যানটি। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুমিন মিয়া ও তারেশ দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল জানান, নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুমিন মিয়া মাসখানেক হয় দেশে এসেছেন। ৮ জানুয়ারি তিনি বিয়ে করেছেন। পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পলাতক আছেন।

মাদারীপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ : মাদারীপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছে আরও দুজন। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খাগদী-শিবচর আঞ্চলিক সড়কের হবিগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুজন হাওলদার (২০)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার চরখাগদী এলাকার খালেক হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের হবিগঞ্জ সেতুতে দুদিক থেকে আসা দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনজন। তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আনা হলে সুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। পরে ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুজন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, মোটরসাইকেল দুটি খুবই দ্রুতগতিতে চলছিল। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।