তাবিথের অগ্রাধিকার প্রথম ৬০ দিন

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আজ সোমবার তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। তাবিথ আউয়াল আজ যে ইশতেহার ঘোষণা করবেন তাতে নির্বাচিত হলে স্বল্প মেয়াদে প্রথম ৬০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি থাকবে। গতকাল রবিবার তাবিথ দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান। অন্যদিকে ইশরাক হোসেন আগামীকাল মঙ্গলবার তার ইশতেহার ঘোষণা করবেন। তাতে তার বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার পাশাপাশি ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানাবেন।

তাবিথ আউয়াল আজ রাজধানীর গুলশানের ইমান্যুয়েল ব্যাংকুয়েট হলে সকাল সাড়ে ১০টায় তার ইশতেহার ঘোষণা করবেন। দুই মেয়র প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তারা যে ইশতেহার ঘোষণা করবেন তার বেশিরভাগ নিজেরাই লিখেছেন। তাবিথ দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে ঢাকাবাসীর যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছে তা লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। সেগুলোর সমন্বয় করে নিজেই ইশতেহারের খসড়া তৈরি করেছেন। পরে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সেগুলো সমন্বয় করে বই আকারে প্রকাশ করছেন। এছাড়া তারা দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসবেন।

তাবিথের ইশতেহারে যা থাকছে নাগরিক সেবা, নাগরিক বিনোদন ও জনস্বাস্থ্য, যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন, আবাসন, নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবেশ উন্নয়ন, বনায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সমাজসেবা কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার, গ্রন্থাগার ও জাদুঘর, নগর পরিকল্পনা ও প্রশাসন, সামাজিক উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, প্রথম ৬০ দিনের কর্মসূচি, দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেবেন।

নাগরিক সেবা : গণশুনানির মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। করপোরেশেনের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জন্ম-মৃত্যু সনদ, ট্রেড-লাইসেন্স এবং অন্যান্য সব ধরনের সেবা তাৎক্ষণিক প্রদানের লক্ষ্যে দ্রুত জবাবদিহিতামূলক ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে। ঢাকা ওয়াসাসহ রাজধানীতে সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপেয় পানীয় জলের সরবরাহ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পয়ঃনিষ্কাষণ আধুনিকায়ন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক ব্যায়ামাগার আধুনিকায়ন করা হবে। যেসব ওয়ার্ডে ব্যায়ামাগার নেই সেখানে নতুন করে স্থাপন করা হবে। নগরবাসীকে সস্তা দামে বিষ ও ভেজালমুক্ত তাজা খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে বিশেষ বিশেষ স্থানে ‘কৃষক মার্কেট’ ও ‘নাইট মার্কেট’ স্থাপন করা হবে।

নদী দূষণমুক্ত করা, নদীর তীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প গ্রহণ এবং নদীভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র, ওয়াটার ট্যুরিজম/নৌ পর্যটন গড়ে তোলা হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষুদ্র পরিসরে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্রীড়া ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ স্কিম চালু করাসহ নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।

যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন : রাস্তা পারাপারে প্রয়োজনীয় স্থানে অধিকসংখ্যক আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, সংরক্ষণ ও সুপরিকল্পিত পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজে পর্যায়ক্রমে এলিভেটর/এস্কেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নগরীতে ওয়ান স্টপ বাস সার্ভিস চালু, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে। রাজধানীর বাইরে এবং বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ করে রাত্রিকালে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে করপোরেশনের উদ্যোগে এবং বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত ও নিরাপদ সিটি পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রশিক্ষিত নিরপেক্ষ কমিউনিটি পুলিশ গড়ে তোলা হবে। হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মহিলাদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

আবাসন : নগরবাসীর আবাসিক সমস্যা সমাধানে রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে ভাড়াজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ভাড়া নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতি দুই বছর অন্তর বাড়ি ভাড়া নির্ধারণে একটি কমিশন গঠন করা হবে এবং এই কমিশনের সুপারিশ সাপেক্ষে এলাকা এবং আয়তনভিত্তিক সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা : ভেজাল তথা বিষ ও ফরমালিনমুক্ত খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাজারে ভেজাল/বিষ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশার সংক্রমণ থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে নিয়মিত মশক নিধনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। নাগরিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বীমার ব্যবস্থা করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থা : বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে নৈশ-শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক শতভাগ সাক্ষরতা কার্যক্রম চালু করা হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য অত্যাধুনিক ‘স্টুডেন্ট বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব উদ্যোগে একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবেশ উন্নয়ন, বনায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : বিশ্বের উন্নত শহরের মতো ‘ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশন’ পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার : জনসচেতনতামূলক ‘কমিউনিটি রেডিও স্টেশন’ স্থাপন করা হবে। মহানগরীতে কয়েকটি ‘স্মার্ট স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা, দুর্নীতি এবং নাগরিক হয়রানি বন্ধ করার লক্ষ্যে মোবাইল অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে ট্যাক্স আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। সিটি করপোরেশনের সব কাগজপত্রে বার কোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

সমাজসেবা কার্যক্রম : অসহায় পথশিশু ও নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ট্র্যাজিক দুর্ঘটনা থেকে নগরীতে স্থাপিত শিল্প কারখানাগুলোতে প্রত্যক্ষ জরিপ চালিয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ড, বয়লার বিস্ফোরণ, কারখানা বিল্ডিং ধ্বংসসহ দুর্ঘটনার উৎসগুলো চিহ্নিত করে করপোরেশন ও বেসরকারি উদ্যোগে এগুলোকে নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জননিরাপত্তা ব্যবস্থা : পর্যায়ক্রমে সব সড়ক, লেন ও বাই লেন সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহায়তায় ওয়ার্ডভিত্তিক ‘অপরাধপ্রবণ’ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে ‘অপরাধমুক্ত শহর’ গড়ে তোলা হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা :

 প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সমন্বয়ে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গড়ে তোলা হবে।

নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার : যৌতুক সমস্যা, ইভটিজিং, এসিড নিক্ষেপসহ নানা ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের দৌরাত্ম্য এসব নৈতিক মূল্যবোধের ভয়াবহ ধস নামার কারণেই সমাজে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গণমাধ্যম, অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম, সার্বিক ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উন্নয়ন সাধন করা হবে।

গ্রন্থাগার ও জাদুঘর : সিটি করপোরেশনের আওতায় জনসংখ্যার আনুপাতিক হার বিবেচনায় গ্রন্থাগার আধুনিক সুযোগ সুবিধা, পুস্তক ও জার্নাল সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার স্থাপন করা হবে। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের আলোকে গ্রন্থাগারগুলোর বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

নগর পরিকল্পনা ও প্রশাসন : বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের মতামতের ভিত্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হবে যাতে এই বিকেন্দ্রীকরণের সুফল দ্রুত তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো যায়। সমন্বিত ও কার্যকর ‘নগর সরকার’ ধারণার বাস্তবায়নে সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উযধশধ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ ঈড়-ড়ৎফরহধঃরড়হ অঁঃযড়ৎরঃু (উঞঈঅ) কে গবঃৎড়ঢ়ড়ষরঃধহ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ অঁঃযড়ৎরঃু (গঞঅ) তে রূপান্তরিত করা হবে।

সামাজিক উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি : নিয়মিতভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রথম ৬০ দিনের কর্মসূচি : নির্বাচিত হলে স্বল্প মেয়াদে প্রথম ৬০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন : আমিসহ সব কাউন্সিলর এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারের শেষদিকে তাবিথ খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম নির্যাতন ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়টি তুলে ধরবেন।

ইশরাকের ইশতেহারে যা থাকছে : আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা ও বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করে ইশরাক ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করবেন। ঢাকা মহানগরের মৌলিক সমস্যা হিসেবে বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, যানজট ও এডিস মশার বিস্তার রোধ, নারীর নিরাপত্তা, পাবলিক টয়লেট সংস্কার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা ব্রিজ নির্মাণসহ নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যাগুলো।

ঢাকা নিয়ে ১০০ বছরের ‘মাস্টার প্ল্যান’ : নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১০০ বছরের পরিকল্পনা করা হবে। ‘ক্লিন ঢাকা’ গড়তে সব ধরনের পদক্ষেপসহ নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টা সুবিধার জন্য ওয়ান স্টপ সেন্টারের পরিকল্পনা থাকবে।

বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা : বায়ুদূষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুরান ঢাকাসহ নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভিন্ন কৌশলের কথা জানাবেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে পুরান ঢাকায় বড় সমস্যা উল্লেখ করে সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কাঁচা ময়লা নিরসনের মধ্যে দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরুসহ ফায়ার সার্ভিসকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হবে।

গারবেজ কম্পাকটর মেশিন স্থাপন : গারবেজ কম্পাকটর মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা খোলা কনটেইনারে রাখার পরিবর্তে আবদ্ধ কনটেইনার রাখা হবে। এ মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রেশার দিয়ে ময়লার ব্লক তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময় এ ময়লার ব্লকগুলো ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।

আন্ডারগ্রাউন্ড কমন ইউটিলিটি টানেলের ব্যবস্থা : শহরের প্রত্যেকটা রাস্তার নিচে কমন ইউটিলিটি টানেলের ব্যবস্থা করা হবে। যেটা কমন ইউটিলিটি ডাক্ট হিসেবে বেশি পরিচিত। কংক্রিটের তৈরি এই ট্যানেলের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রিক, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বসানোর আলাদা আলাদা জায়গা থাকবে।

যানজট ও এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ : বছরব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ির যেখানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো সরানোর প্রতিশ্রুতি থাকবে। যানজট নিরসনে ট্রাফিকের জন্য যেসব অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় রয়েছে তাদের সমন্বয় করে যানজট নিরসনের ব্যবস্থা।

দুর্নীতিমুক্ত নগর পরিকল্পনা : সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার।

নারীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা : নারী-শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিবর্তনের পরিকল্পনা।

গণশৌচাগার নির্মাণ : তিন মাসের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা এবং ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার, পুরান ঢাকার সরু রাস্তাগুলোকে বড় করার কথা বলবেন তিনি।