নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, দুই তরুণী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের এক নারী সদস্যসহ আট সদস্যকে গ্রেপ্তার ও দুই তরুণীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এর আগে একই চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে এই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ড্যান্স বারে তরুণীদের পাচার করে আসছে।

র‌্যাবের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন (পিপিএম-বার) সংবাদ সম্মেলনে জানান, রবিবার র‌্যাব-১১ এর একটি দল কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর ও মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।  

এ সময় র‌্যাব সদস্যরা দুই তরুণীসহ ৩৯টি পাসপোর্ট, ৬৬টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ১৮টি বিমানের টিকিটের ফটোকপি, ৩৬টি ভিসার ফটোকপি, ১টি কম্পিউটার এবং ১৯ টি মোবাইল জব্দ করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার শাহাবুদ্দিন (৩৭), নোয়াখালীর সেনবাগের হৃদয় আহম্মেদ ওরফে কুদ্দুস (৩৫), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মামুন (২৪), মাদারীপুরের কালকিনি থানার স্বপন হোসেন (২০), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের শিপন (২২), মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের রিজভী হোসেন ওরফে অপু (২৭), পটুয়াখালীর বাউফলের মুসা ওরফে জীবন (২৮) ও চাঁদপুরের মতলবের শিল্পী আক্তার (২৭)।

সংবাদ সম্মেলনে আলেপ উদ্দিন জানান, এই চক্রের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্টের দালাল, ড্যান্স বারের মালিক, ট্রাভেল এজেন্সি, ও অসাধু ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে। এই নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিম্নবিত্ত পরিবার, ব্রোকেন ফ্যামিলি এবং পোশাক শিল্পে কর্মরত সুন্দরী তরুণীদের টার্গেট করে থাকে।

প্রাথমিক টার্গেটের পর তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যান্স বারের মালিককে পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রতিনিধি সরাসরি ঢাকায় অথবা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্টে অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে।

চূড়ান্ত নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট নিজস্ব দালালদের মাধ্যমে প্রস্তুত করে ট্রাভেল এজেন্ট মালিকদের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।

পাচার হয়ে যাওয়া তরুণীরা এয়ারপোর্টে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দী করে রাখত। প্রাথমিক অবস্থায় এরা অসামাজিক কাজ করতে রাজি না হলে তাদেরকে নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করা হতো।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ নভেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে এই চক্রের অনিক হোসেন (৩১), মো. মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০), মো. আক্তার হোসেন (৪০), মো. আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭), আ. হান্নান (৫২) এবং মো. আকাশ (২৯) নামে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে কেবল নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫ থেকে ৭শ তরুণীকে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।