করোনাভাইরাস

পদ্মা সেতুর কাজে অসুবিধা হবে না : কাদের

করোনাভাইরাসের কারণে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, চীন থেকে যারা আমাদের দেশে আসছেন, তাদের

ব্যাপারে আমাদের নজরদারি আছে। আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যে যারা এসেছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাদের ১৪ দিন সব কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের পদ্মা সেতুর কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বিঘিœত হবে না।

পদ্মা সেতুতে প্রায় এক হাজার চীনা শ্রমিক-কর্মী কাজ করেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মরতদের মধ্যে ১৫০ জন শিফটিং ছুটিতে থাকেন। ভাইরাসের কারণে আমাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হবে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বহু চীনা নাগরিক কাজ করলেও তাদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এবং করোনাভাইরাসের জন্য তারা বিপজ্জনক নয় বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

এদিকে পদ্মা সেতুর চীনা কর্মীদের দেশে আসা-যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি। তিনি জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনা কর্মীদের মধ্যে যারা ছুটি কাটাতে চীনে গেছেন, আপাতত তাদের বাংলাদেশে ফেরা বন্ধ করা হয়েছে। আবার চীনা কর্মীদের মধ্যে যারা প্রকল্প এলাকায় রয়েছেন তাদের কেউ যেন চীনে যেতে না পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করছে। এ প্রকল্পে ১ হাজার ১০০ চীনা শ্রমিক কর্মরত ও কর্মকর্তা রয়েছে। পাশাপাশি ছয় হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক এ প্রকল্পে কাজ করছেন। এ কর্মকর্তা আরও জানান, করোনাভাইরাসের কারণে চীনাসহ সব কর্মরত শ্রমিককে পর্যায়ক্রমে শারীরিক চেকআপ করা হচ্ছে। কারও মধ্যেই করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সিনিয়র অক্যুপেশনাল অ্যান্ড হেলথ স্পেশালিস্ট মাহমুদ হোসেন ফারুক বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনা প্রকৌশলী ও কর্মীসহ কেউই এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। চীনা কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আলাদা। যারা তাদের সার্ভ করেন তারা যেন সবসময় সেফটি ড্রেস (মাস্ক ও গ্লাভস) পরে থাকেন, সেগুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে। চীনা কর্মীদের আলাদা ক্যাম্প আছে। অন্যদের সঙ্গে যেন অতিরিক্ত মেলামেশা না করেন, সে বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে।