চীনফেরত তরুণ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে

শরীরে জ্বর থাকায় চীন থেকে আসা এক তরুণকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাত।

ওই কর্মকর্তা জানান, এই তরুণ সাউদার্ন চায়না এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে গত বুধবার রাতে ঢাকায় আসেন। তিনি চীনের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তবে তিনি করোনাভাইরাসকবলিত চীনের উহান শহর থেকে আসেননি। শাহজালাল বিমানবন্দরে আসার পর থার্মাল স্ক্যানারে তার জ্বর ধরা পড়ে। ওই তরুণের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০০ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। জ্বর থাকায় তাকে বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সকালে তার শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে পরীক্ষার পর ওই তরুণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, চীনে এই তরুণের দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। চীন থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি দেশে এসেছেন। তার জ্বর থাকলেও শ্বাসকষ্ট ছিল না। চীনে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২০ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ হাজার ৬৫৪ যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। তবে গতকালই প্রথম জ্বরাক্রান্ত এই রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।

সব এয়ারলাইনসের যাত্রীদের স্ক্রিনিং: শুধু চীন থেকে আসা চারটি ফ্লাইট নয়, বিমানবন্দরে আসা সব ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী বিমানবন্দরে যাত্রী স্ক্রিনিংসহ (পরীক্ষা) যেভাবে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করে কার্যক্রম চলছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চীন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়ায় অধিকতর সতর্কতার জন্য দেশটি থেকে আসা চারটি ফ্লাইট ছাড়াও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা প্রতিটি ফ্লাইটের যাত্রীদের জ্বর মাপার যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষার পাশাপাশি সব ফ্লাইটে হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে কোনোভাবেই যেন এ ভাইরাস দেশে ঢুকতে না পারে। এরপরও যদি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়, তাদের পৃথকভাবে রেখে সুচিকিৎসা প্রদানের জন্য রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চীন ফেরত ৩ হাজার ৭৫৪ জন যাত্রীর স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে করোনাভাইরাস সন্দেহে রাজধানীসহ সারা দেশের দুটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন চীনা নাগরিকসহ তিনজন ভর্তি হন। তাদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। নমুনা পরীক্ষায় কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আজ (গতকাল) সকালে চীন ফেরত এক যুবককে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জ্বর নিয়ে ভর্তি হলেও আগের তুলনায় তার জ্বর কমেছে বলে জানা গেছে।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা স্ক্রিনিং করা যাত্রীর সংখ্যা ৪০৬। আইইডিসিআরের হটলাইনে মোট কলের সংখ্যা ৭৩টি। আইইডিসিআর করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত সেবা গ্রহীতার সংখ্যা ৮। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।