ভারত ও বাংলাদেশের দুই সরকার আগের তুলনায় আরও বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ হয়েছে উল্লেখ করে রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, এখন রেল, সড়ক পথ, নৌ এবং আকাশ পথে সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদীবাড়ি পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে বিএসএফ ও বিজিবির সমন্বয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাসে চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ নির্মাণকাজ শেষে জুলাই মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এই পথে রেল চলাচলের উদ্বোধন করবেন।
কলকাতা থেকে ট্রেনে চিলাহাটি-হলদীবাড়ি দিয়ে ঢাকা পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি ভারতের হলদীবাড়ি, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি পর্যন্ত উভয় দেশের মানুষ চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি ভারত যদি মনে করে কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত এই পথ দিয়ে ট্রেন চলাচল করাতে পারবে।
তিনি জানান, চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ শুধু ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এর সঙ্গে সংযুক্ত হতে চেষ্টা করছে নেপাল ও ভুটান।
এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের হয়ে উপস্থিত ছিলেন- বিএসএফ ৬৫ ব্যাটালিয়নের সেকেন্ড ইন কমান্ড জগদীশ দাওয়াই, ভারতের উত্তরাঞ্চল রেলের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে, প্রকল্প প্রকৌশলী তপন দাস এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান, বিজিবি ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আল ফাত্তাহ মোহম্মদ মাসুদুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (পাকশী) আসাদুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় দশমিক ছয় কিলোমিটার এই রেলপথ নির্মাণ হলে পাঁচ দশক পর এই পথে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হবে। এর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৮ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া কাজটি চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হবে।