উরুগুয়ের দক্ষিণের বাসিন্দা গার্সিয়েলা মার্টিনজ কনটেইনারে করে প্লাস্টিক বর্জ্য পাঠানোর আগে সব বর্জ্য মেপে দেখছেন। এই বর্জ্য বিক্রির বিনিময়ে গার্সিয়েলার মোবাইল কিছু ভার্চুয়াল অর্থ চলে আসবে। ওই ভার্চুয়াল অর্থ দিয়ে তিনি রেস্টুরেন্ট অথবা অংশীদারি কোনো দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে ছাড় পাবেন।
৩২ বছর বয়সী ডিজাইনার ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী হুয়ান রিভেরা জানালেন উগান্ডার প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের বিনিময়ে নতুন প্রচলিত ‘প্লাস্টিককয়েন’ ব্যবহারের কথা। তার ভাষ্যে, ‘সমুদ্র সৈকত যাতে প্লাস্টিকে দূষিত না হয়, তাই এমন উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।’ প্লাস্টিক সংগ্রহ করে দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে নিয়ে যেতে পারেন নিকটবর্তী সংগ্রহশালায়।
প্লাস্টিক কয়েনের এই প্রকল্পটি মূলত উগান্ডার উপকূলীয় পিরিয়াপোলিশ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অন্তত এক কিলোগ্রাম প্লাস্টিক জমা দিলেই ১০০ থেকে ৪০০ প্লাস্টিক কয়েন মিলবে। বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের কারণে দামের এই রকমফের। গৃহস্থালি বর্জ্যরে জন্য ১০০, সৈকতের আবর্জনার জন্য ২০০ আর মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য ৪০০ প্লাস্টিক কয়েন দেওয়া হয়।
দ্য প্লাস্টিক কয়েন প্রকল্পের কারণে পিরিয়াপোলিসের সৈকত এখন আর আগের মতো নোংরা হয় না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উগান্ডা সরকারের একটি উন্নয়ন এজেন্সি এই প্রকল্পের জন্য পাঁচ হাজার ডলার অনুদান দেয়। অনুদানের ওই অর্থ থেকেই এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু। ধারণা করা হয়েছিল, প্রকল্পের প্রথম চার মাসে অন্তত ১০০ জন রেজিস্ট্রেশন করবেন। কিন্তু শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনকারী ব্যক্তির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়।
শহরের মেয়র মারিয়ো ইনভারনিজ্জি এই প্রকল্পকে স্বাগত জানান এবং জনগণের মধ্যে আরও জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেন। তবে ৩৪ লাখ জনগোষ্ঠীর দেশে প্লাস্টিক সম্পর্কে জনসচেতনতার অনেক অভাব করে বলছে এএফপি। পুনর্ব্যবহার বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সেম্প্রের প্রধান ফ্রেডিকো বারাইদারের মতে, মোট প্লাস্টিক বর্জ্যরে মাত্র ৩৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা যায় উগান্ডায়। যদিও এর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ প্লাস্টিকই শেষ পর্যন্ত পুনর্ব্যবহার প্ল্যান্টে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বিশ^জুড়েই প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রতি ক্রমেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু দেশ কিছু প্লাস্টিক উপাদান ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। উগান্ডার মতো পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোকে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।