কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা সাবমেরিন নৌঘাঁটির পাশে সাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে একটি চক্র। নির্বিচারে বঙ্গোপসাগর থেকে বালু উত্তোলন করার কাজ চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে নীরব দর্শক।
সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজারের দুই উপজেলা পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যবর্তী স্থান বঙ্গোপসাগরের মগনামায় নির্মিতব্য সাবমেরিন নৌঘাঁটির পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অনবরত তোলা হচ্ছে বালু। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন জানান, পেকুয়ার বারাবকিয়া ইউনিয়নের পূর্ব জালিলাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা এইচএম শওকতের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র ১৫ দিন ধরে তুলেছেন এসব বালু। ওই নেতার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও জড়িত।
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনরাত সমানতালে বালু উত্তোলন করায় নষ্ট হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। উত্তোলিত বালু পাইপলাইনের মাধ্যমে এনে রাখা হচ্ছে বেড়িবাঁধের বাইরের চরে। এতে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক খনিজসম্পদ, সামুদ্রিক প্রাকৃতিক জীবসম্পদ, মৎস্য, চিংড়ি, শামুক, ঝিনুক, ডলফিন, কাঁকড়া, সি-উইড, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন-আবাসস্থল। এভাবে জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ইকো-সিস্টেমকে ক্ষতিসাধন করে রাষ্ট্রের সামুদ্রিক জলজ সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রতল, জলরাশি, জলস্রোত, বায়ু, সামুদ্রিক প্রবালপ্রাচীরও দূষিত হচ্ছে।
অবৈধভাবে বালু তোলা প্রসঙ্গে জানতে ছাত্রলীগ নেতা এইচএম শওকতের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যান্য উপায়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে কোনোভাবেই পাওয়া যায়নি।
মগনামা ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, ছাত্রলীগ নেতা শওকত চট্টগ্রামের একজনের কাছ থেকে সাব ঠিকাদারি নিয়ে সাগর থেকে বালু তুলছেন বলে তিনি শুনেছেন।
পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার রফিকুল ইসলাম জানান, মগনামা সাবমেরিন নৌঘাঁটির পয়েন্টে সাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিকি মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে যে কাউকে পেকুয়ার ইউএনও বরাবর বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।