জলদস্যুদের হাত থেকে ঢাকাকে রক্ষার জন্য বাংলার সুবেদার মীর জুমলা ঢাকার আশপাশে যে তিনটি দুর্গ নির্মাণ করেনÑ শীতলক্ষ্যার পূর্বতীরের সোনাকান্দা দুর্গ তার একটি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ঐতিহাসিক এ দুর্গটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গো-চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে মোগল আমলের এই ঐতিহ্য।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর প্রমাণ বহনকারী দৃষ্টিনন্দন দুর্গটির বেহাল দশা। মূল সড়ক থেকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়বে দুর্গের পূর্বদিকের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিশাল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সঙ্গে রয়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো বেশ কয়েকটি লাউয়ের ঝাঁকা ও ভাসমান টং দোকান। এছাড়া দুর্গের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের প্যাকেট, কাঠের বড় বড় গুঁড়ি, গবাদি পশুর বিষ্ঠা এবং অন্যান্য আবর্জনায় সয়লাব। আরও দেখা যায়, দুর্গের একমাত্র প্রবেশদ্বারের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। চারপাশে স্থাপন করা কামান দাগানোর প্ল্যাটফরমগুলোর দেয়ালের আস্তরণ খসে পড়ছে। উত্তর দিকের লম্বা মঞ্চটির গায়ে ছোট-বড় গর্ত।
স্থানীয় সানোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, দুর্গের আশপাশের বাড়িগুলোতে প্রতিদিন যে ময়লা জমে তা এখানে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গের পাশেই অবস্থিত এক আওয়ামী লীগ নেতার বিস্কুটের কারখানার সব আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। এতে দিন দিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে দুর্গটি।
সোনাকান্দা কেল্লা জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে আজ দুর্গের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এলাকার লোকজন এবং সিটি করপোরেশন একটু সুদৃষ্টি দিলেই দুর্গটি আগের রূপ ফিরে পাবে।’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, ‘দুর্গের সামনে ময়লা ফেলার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী পাশের একটি বিস্কুট কারখানা। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ দুর্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য শিগগিরই বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হান্নান মিয়া বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের দুর্গগুলো নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে সর্বপ্রথমই রয়েছে কাঠামোগত উন্নয়ন, যা দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। আমাদের লোকবলের একটু সংকট রয়েছে। তবুও দুর্গগুলো অবশ্যই সংরক্ষণ এবং মেরামত করব।’