বিশ্ববাসী এক বছর ধরে সিঙ্গেল ইউস প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করছে। কিছু দেশ ইতিমধ্যেই এই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই সিঙ্গেল ইউস প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করেও দূষণ ঠেকানো যাচ্ছে না। কারণ আরও অনেক উৎস রয়েছে যা থেকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতিতে প্লাস্টিক যাচ্ছে।
পৃথিবীর সাগরগুলো প্লাস্টিক আবর্জনায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। সামুদ্রিক এই দূষণের জন্য দায়ী পদার্থের মধ্যে অন্যতম পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মাইক্রোফাইবার। দীর্ঘদিন ধরে এই মাইক্রোফাইবার মানুষের দৃষ্টির বাইরে ছিল। অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেনি এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা আসছে কোথা থেকে।
আমাদের পরিহিত পোশাকের অধিকাংশই প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন প্লাইমাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের গবেষক ইমোজেন নাপ্পার। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা আমাদের পোশাক ধৌত করছি। এতে হাজার হাজার ফাইবার বের হয়ে আসছে। প্রকৃতিতে প্লাস্টিক দূষণের অন্যতম কারণ এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এত ক্ষুদ্র উপাদান আমরা কীভাবে অপসারণ করব?’
এলেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের ২০১৫ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, প্রতি বছর ৫ লক্ষাধিক টনের বেশি মাইক্রোফাইবার পানিতে মেশে। আর বছরে ৫ কোটি ৩০ লাখ টন নতুন টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একটি পরিবার বছরে ৫০০ মিলিয়ন মাইক্রোফাইবার প্রকৃতিতে নিক্ষেপ করে বলে জানিয়েছে ওশান ওয়াইস নামের একটি সংস্থা।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই দূষণের মাত্রা কতটা ভয়াবহ তার কোনো পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগে প্রতিদিনকার ব্যবহৃত উপাদান থেকে বের হওয়া মাইক্রোফাইবার সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মেশে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য।
একটি বেসরকারি দাতব্য সংস্থার সদস্য লরা ডিয়াজ সানচেজ বলেন, ‘পোশাক নির্বাচন ও ধৌত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই দূষণ কিছুটা কমানো সম্ভব। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অনেক পোশাকের ফাইবার ভেঙে যায়। গুঁড়ো সাবানের তুলনায় তরল ডিটারজেন্ট ভালো। আর পোশাক শুকানোর ক্ষেত্রে ড্রাইয়ার ব্যবহার করা উচিত হয়।’
বিশেষজ্ঞরা মানুষকে কম পোশাক কিনতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। বাজার থেকে কিনে আনা নতুন পোশাক প্রথমবার ধোয়ার সময় অনেক বেশি মাইক্রোফাইবার বের হয়। উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত ওয়াশিং মেশিনে কোনো ফিল্টার না থাকায় ওই মাইক্রোফাইবারগুলো সরাসরি পানির উৎসে চলে যায়।