চিতলমারীর ১১১ প্রাইমারির ৯০টিতে শহীদ মিনার নেই!

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০টিতেই শহীদ মিনার নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিলন দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সামনের মাসের মিটিংয়ে এ বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দেশনামূলক কোনো চিঠি আমাদের দেয়া হয়নি। নৈতিকভাবে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে থাকি,’ মন্তব্য করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু স্কুলে স্লিপ ফান্ডের টাকা দিয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেশের শিশুদের শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক প্রথম ধাপ বলা হয়। এখানেই তারা শিষ্টাচার, শ্রদ্ধাবোধ, দেশপ্রেম ও জীবন গঠনের প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করে। এমন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ।

তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যখন পরিচালনা কমিটি গঠনে ভোট হয় তখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা স্কুলের উন্নয়নের জন্য নানা রকম কথা দেন। নির্বাচন শেষে তারা কিছুই করেন না।

সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করা যায় বলেও পরামর্শ তাদের।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শুধু সরকারি স্কুল নয়; স্থানীয় ‘নামীদামি’ কিন্ডারগার্টেনেও শহীদ মিনার নেই। অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদ দিবস পালন করা হয় সেখানে।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের বাধ্যবাধকতার একটি সুপারিশ এসেছিল গত বছর জুলাইতে। ওই সময় অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে বলে।

কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ তখন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’