জয়ের দিনে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জবাব বাভুমার

বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেল ইংল্যান্ড। লর্ডসের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের প্রায় ৭ মাস পর গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে হেরে গেছে তারা। প্রোটিয়াদের নতুন অধিনায়ক কুইন্টন ডি কক ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান টেম্ব বাভুমার অসাধারণ দুটি ইনিংস জয় এনে দিয়েছে ইংলিশদের কাছে ৩-১-এ টেস্ট সিরিজ হেরে যাওয়া প্রোটিয়ারা। জয়ের দিনে নিজের প্রতি অবিচার নিয়ে মুখ খুলেছেন বাভুমা। দলে কৃষ্ণাঙ্গ কোটার খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট সিরিজে জায়গা হয়নি ছোটখাটো গড়নের এই ব্যাটসম্যানের। তবে ফাফ ডু প্লেসিকে বাদ দিয়ে গড়া নতুন ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন। নাম ঘোষণার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন জবাব দেওয়ার। সুযোগ পেয়ে ১০৩ বলে ৯৮ রানের ইনিংস খেলার দিনই তার প্রতি অবজ্ঞার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে বাভুমা আশা প্রকাশ করেন, এই ইনিংস দলে তাকে বিতর্কের অবসান ঘটাবে।

ইংল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজ হেরে যাওয়ার পর নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে নতুন যুগের শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা ভালো হয়েছে তাদের। নিউল্যান্ডসে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে ২৫৮ রানে বেঁধে ফেলে তারা। জবাবে মাত্র ৩ উইকেটেই প্রয়োজনীয় রান তুলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। এ জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১৩ বলে ১০৭ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা অধিনায়ক ডি কক। তার সঙ্গে ১৭৩ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়া বাভুমা ১০৩ বলে ৯৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৯ বছর বয়সী বাভুমার এটি মাত্র তৃতীয় ওয়ানডে। ৩ ইনিংসে একটি সেঞ্চুরিও আছে তার। ৬ বছরে ৪০টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। সেদিন শেষে তার কথা প্রোটিয়া বোর্ডের বর্ণবাদ নিয়ে সন্দেহজনক সিদ্ধান্ত খবর হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপে বাজে পারফর্মের পর প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ড দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই হিসেবে একাদশে মাত্র দুজন কৃষ্ণাঙ্গ, ভারতীয় কমিউনিটি ও মিশ্র জাতি থেকে চারজন ও বাকি পাঁচজন শ্বেতাঙ্গ থাকবেন। এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। অনেকেই ব্যাপারটিকে প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ডের বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে পারফরম্যান্সের বিষয়টি সামনে এনে বাদ দেওয়া হয় বাভুমাকে। অথচ আগের সিরিজে ভারতের বিপক্ষে সহঅধিনায়ক ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়েই ভালো করা বাভুমা বলেন, ‘এটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। বিষয়টা শুধুই দল থেকে বাদ পড়া নয়, সব ক্রিকেটারই তো দলের বাইরে যায়, তবে তাদের সবাই ভালো পারফর্ম না করায় বাদ পড়ে। কিন্তু আমার বেলায় পরিবর্তনের কথা উঠল। খারাপ লাগা বা অস্বস্তির কারণটা হলো যখন এমন কিছুর কারণে বাদ পড়তে হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা প্রতিবাদের সুরেই মনের ব্যথা উগড়ে দেন বাভুমা ‘হ্যাঁ, আমি কালো, এটাই আমার গায়ের রং। কিন্তু আমি ক্রিকেট খেলি খেলাটাকে ভালোবাসি বলে। আমি অবশ্যই নিজেকে পারফরমার হিসেবে দলে দেখতে চাই। খারাপ করলে বাদ পড়তে চাই। অন্য কিছু যেন আমার সঙ্গে না হয়। আমি আমার ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় দলের জন্য সমান পরিশ্রম করি।’

গত দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা পারফর্ম করে যাচ্ছেন বাভুমা। কিন্তু ইংল্যান্ড সিরিজে বাদ পড়াটা মেনে নিতে পারেননি। পরিবর্তনের কথা বলে বোর্ড তার প্রতি বর্ণবাদমূলক আচরণ করেছে বলেই মনে করেন বাভুমা, ‘যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বিরক্তি করেছে তা হলো পরিবর্তনের কথা বলে সরিয়ে দেওয়া। যখন ভালো করছি তখন পরিবর্তনের কথা আসছে না কিন্তু খারাপ করলেই পরিবর্তন বিষয়টি একদম সামনে চলে আসে। এই বিষয়টি আমি একদম মানতে পারি না। কালো ক্রিকেটাররা খারাপ করলে যে পরিবর্তনের কথা তোলা হয় সেটা আমরা ভালো করলেও তোলা হোক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি দয়ার পরবশ হয়ে দলে জায়গা পাইনি। আমি পারফর্ম করেই দলে এসেছি। জানি না পরের সিরিজে কী হবে কিন্তু এখন প্রতি মুহূর্ত আমি উপভোগ করছি।’