‘ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, সুস্থ দেহ সুন্দর মন’ এ প্রবাদটি যেন ভেস্তে যেতে বসেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়। পৌরশহরের বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি গত প্রায় আট বছর ধরে দখল করে বালুবাহী ট্রাকের রাস্তা বানিয়ে পরিণত করা হয়েছে বালু পরিবহনের রমরমা বাণিজ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি) পরিচালিত শতবছরের পুরনো বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মাঠটি দখল করে ডাইভারশন তৈরি করে দেদার চলছে বালু পরিবহনের ব্যবসা। তবে মাঠের ওপর দিয়ে বালিবাহী ট্রাক পরিবহন ও চলাচল বন্ধ করতে এবং মাঠটি নিজেদের জায়গা দাবি করে ২০১৬ সালে জেলা জজ আদালতে একটি মামলাও করেছে জিবিসি কর্র্তৃপক্ষ। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত মাঠের ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রভাব আজও দেখা যায়নি।
খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে স্পষ্ট করা আছে, খেলার মাঠ, অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু এ বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জিবিসি কর্র্তৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারে বালু ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঠ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ইতিপূর্বে ক্রীড়ামোদীসহ সর্বস্তরের জনগণ বেশ কয়েকবার মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ঐতিহ্যবাহী এ খেলার মাঠের ওপর দিয়ে সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু, পাথর, কয়লা বহনকারী ট্রাক, লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন বালু পরিবহন করে আসছে। প্রতিদিন সাড়ে তিনশো থেকে চারশো গাড়ি চলাচল করে এ মাঠের ওপর দিয়ে। আর মাঠ দিয়ে ট্রাক চলাচলের জন্য ট্রাকপ্রতি ২৫০ টাকা করে চাঁদা রাখছে জিবিসি ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদিবাসী নেতা বলেন, যেখানে খোদ জিবিসি কর্র্তৃপক্ষ এ চাঁদা সংগ্রহে জড়িত, সেখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা করবেই বা কি? মামলার বিষয়টি আড়াল ও আইন লঙ্ঘন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারণে খেলার মাঠ দিয়ে গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ায় মাঠের পুরো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এলাকার বৃদ্ধরাসহ শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলার সুযোগ থেকে।
বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক মাঠ থেকে টাকা ওঠানোর বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। জিবিসির সভাপতি শৈবাল সাংমা মাঠ থেকে চাঁদা ওঠানোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মাঠের জায়গা জিবিসির নামে রয়েছে, মাঠকে কেন্দ্র করে মামলাও চলছে।
দুর্গাপুরের ইউএনও ফারজানা খানম ফোনে বলেন, উচ্চ আদালতের রিট হয়েছে শুনেছি তবে এর কপি আমার কাছে এখনো আসেনি। রিটের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে জিবিসিকে।