লন্ডন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। গতকাল শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত বলেছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের ফলে শামীমা বেগম রাষ্ট্রহীন হয়ে যাননি। মা-বাবা বাংলাদেশি বলে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দাবি করতে পারেন।
এই রায়ের ফলে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে
প্রাথমিক লড়াইয়ে হেরে গেলেন শামীমা। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারকাজ হয়, এমন আংশিক-গোপন আদালতে (দ্য স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশন) শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা নিয়ে করা চ্যালেঞ্জের বিষয়টির শুনানি হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রহীন করার সুযোগ নেই। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের ফলে শামীমা রাষ্ট্রহীন হয়ে যাননি। তিনি ‘বংশগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক’। নাগরিকত্ব বাতিলের কয়েক বছর আগেই শামীমা স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেছেন। ফলে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে তিনি যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন বিষয়টি এমন নয়।
শামীমা বেগমের বয়স এখন ২০, ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে ১৫ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়েছিলেন তিনি। চার বছর পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ গত মাসে তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে আবেদন করে শামীমা বেগমের আইনজীবী তাকে দেশে ফিরতে দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। শামীমা তার মায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের আবেদন করারও চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শামীমা বেগম বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তাকে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, শামীমা বেগম যদি বাংলাদেশে গিয়ে হাজির হয়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করবেন শামীমা। শামীমার আইনজীবী ড্যানিয়েল ফারনার বলেছেন, তার মক্কেল ‘অত্যধিক জরুরি’ কারণ হওয়ায় ‘অতি সত্বর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করবেন।’ তিনি বলেন, শামীমা যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন তা আরও বেড়ে গেছে।
বর্তমানে উত্তর সিরিয়ার ক্যাম্প রোজ নামে একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন শামীমা। তবে কমিশন বলেছে যে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ওই শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমকে থাকতে বাধ্য করে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেননি।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ছেড়ে স্কুলের দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ার উদ্দেশে বেরিয়ে যান শামীমা বেগম। কয়েক দিনের মধ্যেই তুরস্কের সীমান্ত পার করে রাকার আইএস সদর দপ্তরে পৌঁছান তিনি। সেখানে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে আইএসে যোগ দেওয়া এক ডাচ নাগরিককে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিনটি সন্তান ছিলÑযাদের সবাই মারা গেছে।