ভুলের মাশুল দিচ্ছে বাংলাদেশ

একে বাংলাদেশের এই বোলিং আক্রমণ প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো নয়। অন্তত ১০ উইকেট নেওয়ার লড়াইয়ে যখন এগিয়ে যাওয়ার পালা তখন ফিল্ডাররা শিশুতোষ ভুল করে ফেললে কী হতে পারে?

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানের

ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন কার্যফল। এদিনের পুরোটা ব্যাট করে ৮৭.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪২ রান স্বাগতিকদের। প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের ২৩৩ টপকে ১০৯ রানের লিড তাদের। তৃতীয় দিনে রানের পাহাড়ে ওঠার অপেক্ষা তাদের। যাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে না হয়, প্রতিপক্ষকে হারানো যায় ইনিংস ব্যবধানে।

এই যে পাকিস্তানের সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজম ক্যারিয়ারসেরা ১৪৩ রানে অপরাজিত, তা কি হওয়ার কথা ছিল? ওপেনার শান মাসুদ যে ঠিক ১০০ করে আউট হলেন, তারও কি সেঞ্চুরি পাওয়ার ছিল? ইবাদত হোসেন, লিটন দাসরা তা হতে দিয়েছেন উইকেট পাওয়ার এই আকালে।

তাইজুল ইসলাম ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং লাইনে পরীক্ষিত কেউ নেই। আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত কিছুদিন হলো খেলছেন। রুবেল হোসেন ফিরেছেন ২০১৮ সালের পর। সকালের প্রথম ঘণ্টায় পাকিস্তানকে চাপে রাখতে পেরেছিলেন মূলত তাইজুল-রাহী মিলে। সেই চাপ আলগা করে ধীরে ধীরে পাকিস্তান বড় রানের ভিত্তি গড়ে শেষ করেছে দিনটা। চতুর্থ উইকেটে আসাদ শফিকের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি বাবরের। শফিক ৬০ রানে অপরাজিত।

বাংলাদেশের দিনের শুরু আর শেষের মধ্যে কি বৈপরীত্য দেখুন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার। রাহীর প্রথম। আগের তিন ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি হাঁকানো আবিদ আলি ‘শূন্য’তে ফেরেন। রাহীর গুড লেন্থের বলটা আবিদের ব্যাটের বাইরের কানা নিয়ে উইকেটকিপার লিটনের হাতে। মনে হলো, প্রথম দিনে যেমন ১০ উইকেট পড়েছে এদিনও তেমন কিছু হতে যাচ্ছে।

কিন্তু অধিনায়ক আজহার আলি (৩৪) এসে মাসুদকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা চমৎকারভাবে সামলেছেন। বাউন্ডারির ওপর ভর করে খেলা মাসুদ ৫৪ বলে ফিফটি করে ফেলেন। আজহার-মাসুদের ৯১ রানের জুটি ভাঙেন সেই রাহী। একপ্রান্তে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ছিলেন। তাকে মারার তেমন ঝুঁকি না নিয়ে অন্যপ্রান্তে চলছিল হামলা। রাহী ছোটখাটো সুইংয়ে ভালোই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবং অফ স্টাম্পের বাইরে রাখা তার এক বল তাড়া করতে গিয়ে একমাত্র সিøপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আজহার।

২ উইকেটে ৯৫ রানে লাঞ্চ। বাংলাদেশের এরপর বাবরের উইকেট তুলে নিয়ে উৎসব করার কথা। ৩০তম ওভারের ঘটনা। বাবর ২ রানে। উইকেটে নেমে এসে তাইজুলকে লং অফ দিয়ে তুলে মারতে চাইলেন। ঠিকমতো পারেননি। বল উঠেছে আকাশে। মিড অফে ক্যাচটা নিতে দৌড়ানো ইবাদতকে দেখেই মনে হয়েছে, এটা গেল। গেছেও। কোনোমতে হাতে লাগিয়ে অমূল্য ক্যাচ ফেলেছেন ফিল্ডার।

বাবরের মতো বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান এমন জীবন পেয়ে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার মানুষ নন। দেননিও। তার সঙ্গে মাসুদের ১১২ রানের জুটি হয়েছে। তবে দ্রুত ছোটা মাসুদ ব্যক্তিগত ৮৬ রানে হাস্যকরভাবে জীবন পেলেন। রুবেলের বাইরের বল ড্রাইভ করার পর কিপার লিটনের গ্লাভসে বল। কোনো আবেদন নেই। না লিটনের। না বোলারের। না বাংলাদেশের। স্নিকোতে দেখা যায় ব্যাটের কানা নিয়ে গেছে বল!

মাসুদ ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। আর এগোনো হয়নি। তাইজুল তুলে নিয়েছেন তাকে। বলটা কীভাবে তাকে বোকা বানিয়ে স্টাম্প ভাঙল ভেবে হতবিহ্বল হয়েছেন ব্যাটসম্যান। আসলে ব্যাট নামাতে দেরি হয়েছে।

শফিকও পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। বোলাররা ক্লান্ত হচ্ছিলেন। চা বিরতির পর দিনের শেষ পর্যন্ত ১৩৬ রান তুলেছে পাকিস্তান। ওভারে চারের বেশি রান। বড্ড উর্বরা হয়ে উঠেছে উইকেট। বোলারদের চিনে নিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ১৩৪ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নিজের আগের সেরা ১২৭ পেরিয়েছেন বাবর। শফিকের চোখেও সেঞ্চুরির স্বপ্ন আঁকা এখন। সব মিলে নিজেদের দোষেই বাংলাদেশের সামনে বন্ধুর পথ। ফেরার পথ মিলবে কি?