খেতেই বড় ব্যয়চাপ

দেশে ধানের বাম্পার উৎপাদনের পরও চালের দাম বেড়ে চলেছে। মাছের দামও চড়া। প্রতি কেজি ২০০ টাকার নিচে মিলছে কেবল পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া। মাংস কেনার সাধ্য সবার নেই। শীতের শেষ দিকেও সবজির দাম তেমন কমেনি। লাউ ৭৫-৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির দামও এখনো তেমন কমেনি। মশলা জাতীয় পণ্যের দামেও উত্তাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় নতুন বছরেও খাবার জোটাতে বড় ব্যয়চাপে রয়েছেন দেশের নিম্ন-আয়ের মানুষ। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরে শাহরিয়ার কবির বলেন, খাবার কিনতেই এখন জটিল হিসাব কষতে হয়। রান্নার সব উপকরণই এখন চড়া। মিনিকেট চালের কেজি ৫৫-৫৮ টাকা। ছয় মাস আগে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, এখনো কমেনি। দেশি পেঁয়াজের কেজি ১৪০, ভালো মানের রসুন ২৩০, সয়াবিন তেল ১১০-১১৫, কাঁচামরিচ ৪০, আদা ১৫০, শুকনা মরিচ ২৬০-৪০০, হলুদ মানভেদে ২০০-২৬০ টাকা। আর এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, কিশমিশের দাম তো আরও চড়া। মশুর ডালের কেজি এখন ১৪০ টাকা। এ অবস্থায় খাবার জোটানোয় এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার ছিল চড়া। এখন বিশ্ববাজারে চিনি, ডাল ও ভোজ্য তেলের সংকট চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের করোনাভাইরাস-সংকট। এর প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। এজন্য আদা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও চীনে অবস্থিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দেশটির খুচরা বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। দেশের পাইকাররা দাবি, চীনের সংকটের কারণে শিপমেন্টে সমস্যা হচ্ছে, তাই মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০, শসা ৩০-৫০, গাজর ৩০-৪০, নতুন গোল আলু ২৫-৩০, শালগম ৩০-৪০, বেগুন ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউশাক, কুমড়াশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা দরে।

বাজারে ছোট আকারের রুই, কাতল, মৃগেল প্রতিকেজি ২০০-২২০, বড় আকারের রুই, কাতল, মৃগেল ৪০০ টাকা পর্যন্ত, কই ২০০-২২০, পাবদা ৪৫০-৫৫০, বাগদা ৫০০-৬০০ ও বড় শোল ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া দেশি কইয়ের কুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা।

গতকাল বাজারে দেশি রসুন প্রতিকেজি ২৩০, আমদানি রসুন ১৮০, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৪০, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ ১৩০-১৪০, তুরস্ক ও মিসরের বড় পেঁয়াজ ৮০-১০০, দারুচিনি ৪২০-৪৩০ ও এলাচ ৪০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১২৫-১৩০, লাল লেয়ার ২০০-২২০, গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ ও খাসির মাংস ৭০০-৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়লে সাধারণত সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পেঁয়াজ, তেল, ডাল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের বাণিজ্য করে। কিন্তু বর্তমানে পেঁয়াজ ছাড়া আর কোনো পণ্য নিয়ে বাজারে নামেনি টিসিবি। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও আপাতত নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য) জিন্নাত রেহানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মাঠে নেমে পড়ব।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দ্রব্যের দাম বাড়তি, এর কিছু সুনির্দিষ্ট কারণও আছে। টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রি. জে. মোহাম্মদ হাসান জাহাঙ্গীর অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় এতদিন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমরা শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বসব। এ বছর টিসিবি অনেক বড় আকারে ট্রেডিং করবে আমাদের এমন পরিকল্পনা রয়েছে।