অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম পেসার শরিফুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতে চলছে উৎসবের আমেজ। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রিকেট ভক্তরা শরিফুলের বাড়িতে ভিড় করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে গত রোববার যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দশ ওভার বোলিং করে দুই উইকেট নিয়ে দলের শ্রেষ্ঠত্বে বড় অবদান রাখেন পেসার শরিফুল। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি ক্যাচ নেন শরিফুল, সরাসরি থ্রোতে একটি রানআউটও করেন।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকে লোকজন শরিফুলদের বাড়িতে ভিড় করছেন। বিশ্বকাপ জেতা তরুণ এই ক্রিকেটারের পুরো এলাকায় এখন আনন্দে মাতোয়ারা। চলছে মিষ্টি খাওয়া আর উল্লাস। তাতে শামিল হচ্ছেন ছোট-বড় সবাই।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসনাৎজ্জামান চৌধুরী জজ, আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক, দণ্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামেদুল ইসলাম শরিফুলদের বাসায় গিয়ে শরিফুলের বাবা মা, পরিবারের সদস্যসহ এলাকা বাসিকে মিষ্টিমুখ করান এবং তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই নৈপুণ্য দেখান পঞ্চগড়ের সন্তান শরিফুল। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বিজয় চত্বরে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের খেলা দেখার ব্যবস্থা করেন। ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকেরা এই খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয় উল্লাস করেন।
শরিফুল দেশে ফেরার পর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রত্যয় হাসান জানান, “শরিফুলের বোলিং স্টাইল, নিখুঁত লাইন এবং লেংথ দেখে আমরা অভিভূত। শরিফুল আমাদের দেবীগঞ্জের গর্ব। শরিফুল আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ নয়, সে জাতীয় টিমের পেস বোলার হিসেবে ভবিষ্যৎ কান্ডারি। ভবিষ্যতে শুধু যুব বিশ্বকাপ জয় নয়, জাতীয় টিমের গুরুত্বপূর্ণ বোলিংয়ের দায়িত্বে শরিফুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
জানা গেছে, প্রতিভাবান পেসার শরিফুল ইসলামের পিতা দুলাল মিয়া একজন ক্ষুদ্র কৃষক, মা বুলবুলি বেগম গৃহিণী। ৪ ভাইবোনের মধ্যে শরিফুল দ্বিতীয়। শরিফুল গ্রামের স্কুল কালিগঞ্জ সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে কালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তি হন।
শরিফুলের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, “শরিফুল লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলতো। স্কুল ফাঁকি দিয়ে মাঠঘাটে ক্রিকেট খেলতো। ক্রিকেটের প্রতি তার খুবই ঝোঁক ছিল। আজ সে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলছে আমি খুবই খুশি।”
শরিফুলের ছোট বোন দুলালি আক্তার জানান, আমার ক্রিকেট পাগল ভাই শরিফুল। লেখাপড়া যা করত তার চেয়ে বেশি ক্রিকেট খেলে বেড়াত। ক্রিকেটের জন্য সারা দিন বাইরে ঘুরতো। একসময় সে দিনাজপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে ক্রিকেটের কোচিং করত। সেখান থেকে সে রাজশাহী যায়। সেখানে প্রথম ক্রিকেটে (লিগ) অংশ নেয়। পরে সে ঢাকায় যায়। সেখানে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অভিষেক হয়।
শরিফুলের মা বুলবুলি বেগম জানান, আমাদের সাড়ে ১৯ শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। ছেলে আমার ক্রিকেট খেলে যা আয় করত তার সবই অসহায় পরিবারের জন্য ব্যয় করত। বিপিএলে খেলে পাওয়া টাকা দিয়ে বাড়ি ও একটি খামার তৈরি করে দেন শরিফুল। এখন এই খামার দিয়েই আমাদের সংসার চলছে।
শরিফুল দেশের জন্য যে সম্মান এনে দিয়েছেন তাতে বাবা মায়ের বুক ভরে গেছে। তাদের প্রত্যাশা জাতীয় দলের হয়েও এভাবেই একদিন দেশকে বিশ্বকাপ জেতাবে ছেলে।