সারা দেশের মতো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শহরের দুটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেঞ্চ ওই দুই কেন্দ্রে নিয়ে চলছে এ পরীক্ষা। এতে এক ধরনের বন্ধ রয়েছে অন্য বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান।
সরেজমিনে গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে গেছে। অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে খেলাধুলা করছে আর শিক্ষকরা অফিসে বসে আছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, চলমান এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রতিটি ক্লাসে দু-তিন জোড়া বেঞ্চ রেখে অন্তত ২০০ জোড়া বেঞ্চ পরীক্ষা কেন্দ্রে দিতে হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে দাঁড়িয়ে উপস্থিতি গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে ক্লাস চালানো অসম্ভব। তাই উপস্থিতি গ্রহণের পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়। এ ক্ষেত্রে তাদেরও কিছু করার থাকে না।
তিনি আরও জানান, তার বিদ্যালয় থেকে শুধু এসএসসি নয়, জেএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায়ও বেঞ্চ নিয়ে যাওয়া হয়। এতে করে অনেকটা সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরম ব্যাহত হয়। এ ছাড়া যে পরিমাণ বেঞ্চ নেওয়া হয়, তার মধ্যে অনেক বেঞ্চ ফিরে আসে ভাঙাচোরা অবস্থায়। এর চেয়ে তার বিদ্যালয় যদি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হতো, তবে অন্তত বেঞ্চগুলো ভাঙার হাত থেকে রেহাই পেত।
গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া রোজ অরনির অভিভাবক জামিলা খাতুন বলেন, ‘আগামী বছর আমার মেয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। যে কারণে আমার মেয়ের জন্য স্কুলের প্রতিটি ক্লাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে যদি স্কুলে ক্লাস না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’ এসব বিষয় চিন্তা করে সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি করেন তিনি।
উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ে সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এ বিদ্যালয় থেকে ৫০ জোড়া বেঞ্চ এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সরবরাহ করতে হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই। কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে সরবরাহ করা বেঞ্চ যখন ফিরে আসে, তখন দেখা যায় অনেক বেঞ্চ পরিবহন করতে গিয়ে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে আমরা আপত্তি জানালেও এ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’
সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, চলমান এসএসসি পরীক্ষায় তার প্রতিষ্ঠান থেকেও বেঞ্চ নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের জন্য নয়, প্রায় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, যে দুটি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাদের বেঞ্চ সংকট রয়েছে। যে কারণে উপজেলার প্রায় সব স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে বেঞ্চ আনা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হলেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।