পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে বিভক্তি

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নিয়ে সংকটে পড়েছে। সংকট এতটাই বেড়েছে যে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত নাগরিক আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) নিয়ে রাজ্যে কর্মকৌশল ঠিক করা উচিত বলছে বিজেপির একটি অংশ। অন্য অংশ বলছে, সারা দেশে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বর্তমান বাস্তবতায় ভিন্ন কৌশল নিয়ে আগানোর কথা।

বিজেপির দিল্লিতে হারের পেছনে যে কারণগুলো সক্রিয় ছিল তার মধ্যে অন্যতম সিএএবিরোধী আন্দোলন। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে বিজেপির জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ হাতছাড়া হয়ে গেলে ভারতে বিজেপির রাজনীতি নৈতিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি পায় বিজেপি। আবার লোকসভার নির্বাচনে দিল্লির সবগুলো আসনও ছিল বিজেপির দখলে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় বিষয়গুলো অধিক গুরুত্ব পায়, ফলে বিজেপিকে নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পশ্চিমবঙ্গে আমরা ১৮টি আসন পেয়েছি। তাই বলে ধরে নেওয়া উচিত হবে না যে বিধানসভায়ও আমরা সবগুলো আসন পাব। রাজ্য নির্বাচনের জন্য আমাদের কৌশল বদলাতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে যে কৌশল কাজ করেছে তা যে রাজ্য নির্বাচনেও করবেÑ এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। শুধু সিএএ বাস্তবায়নের দিকেই আমাদের প্রচারণা জোরদার করা উচিত হবে না। একই সঙ্গে অন্য বিষয়গুলোকেও এগিয়ে আনতে হবে।’

বিজেপির অপর এক নেতা বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের মতো পার্টিকে হারাতে চাইলে দরকার হবে আগ্রাসী কৌশল। এই কৌশল আমাদের আগেও সাহায্য করেছে। নাগরিক তালিকার বিষয়টি লোকসভায় আমাদের ভালো ফল দিয়েছে। আমরা কৌশল পাল্টালে বিরোধী শিবির বুঝে নেবে যে আমার পিছু হটছি। এতে পার্টির ক্যাডাররা বিভ্রান্ত হবে। আমাদের অবশ্যই বিকল্প পরিকল্পনা থাকবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সিএএ-এনআরসি ক্যাম্পেইনের সঙ্গে অন্য বিষয় যুক্ত করতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীনরা শুরু থেকেই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ওই আইনকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের জনতা।