দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বনভোজনের চাঁদা না দেওয়ায় ১৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বহিষ্কার হওয়া ১৮ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নী গত বুধবার রাতেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে ইউএনও গঠিত কমিটি। এছাড়া ইউএনও কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছেন প্রধান শিক্ষককে। তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে।
উল্লেখ্য, পার্বতীপুরের জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের আড়াইশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন বনভোজনের চাঁদা ৪শ টাকা করে না দেওয়ায় গত বুধবার তাদের হাতে বিদ্যালয় পরিত্যাগের সনদপত্র ধরিয়ে দেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক। ওই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই অতিদরিদ্র।
বিদ্যালয়ের বনভোজনে অংশ নেওয়া নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, বহিষ্কৃত ওই ১৮ ছাত্রের কাউকে বনভোজনে গিয়ে উত্ত্যক্ত করতে দেখিনি।
এলাকাবাসী মাহমুদুল হাসান ও মাসুদ রানা বলেন, প্রধান শিক্ষক ১৮ ছাত্রকে বহিষ্কার করার কাজটি ঠিক করেননি। তারা ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে তারা বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্ররা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করবে বলে বিশ্বাসে আসে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে।