সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে সায়েদুল হক সুমন লিখেছেন, ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন মামলা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করে এসেছেন তিনি। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন সামাজিক
স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিবিড়ভাবে জড়িত হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে সময় দিতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া অনৈতিক উল্লেখ করে পদ থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন তিনি।
ব্যারিস্টার সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সামাজিক কাজে এবং জনস্বার্থ বিষয়ের মামলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। তাই ট্রাইব্যুনালে সময় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া আমি যেহেতু মানুষের পক্ষে কথা বলি, ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলি তাই এভাবে বেতন-ভাতা নেওয়াও সমীচীন মনে করি না। এজন্যই ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ পদত্যাগপত্র দিয়েছি। তিনি সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সেটি আমাকে অবহিত করবে।’
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর পদে ৭ বছরের বেশি সময় বেশ কিছু মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পরিচালনা করেছেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনস্বার্থ বিষয়ে ফেইসবুক লাইভে এসে আলোচনায় আসেন তিনি। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানার ওসির (পরে বরখাস্ত) বিরুদ্ধে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সুমন। এ মামলায় বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল মোয়াজ্জেমকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়।