ফুল চাষের লাভে কমছে তামাকের আগ্রাসন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমির একপাশে ফুলচাষ আর অন্যপাশে বিষাক্ত তামাকচাষ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সম্প্রতি এ চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। দিন দিন তামাকের চেয়ে ফুলচাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সেখানে। এতে ফুলের সৌরভে কমে আসছে তামাকের বিষাক্ত আগ্রাসন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চকরিয়ার বরইলী ইউনিয়নে তামাকের পরিবর্তে চলতি বছর ৭৬ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ২৮ হেক্টরে গ্লাউডিলাস এবং ১২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করছেন পাঁচ শতাধিক চাষি।

স্থানীয় গোলাপচাষি মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘আগে তামাকচাষ করতাম, এখন গোলাপ। অর্থনৈতিক হিসেবে গোলাপচাষই ভালো। তামাকে ছয় মাস লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু গোলাপচাষে একবার চারা রোপণ করলে তিন থেকে চার বছর লাভবান হওয়া যায়।’ ফজলুল কবির নামে আরেক চাষি বলেন, ‘তামাকের কারণে পরিবেশের ক্ষতি যেমন হয়, তেমনি মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তামাক চুল্লিতে বনের কাঠ পোড়ানো হয়।’

তামাক কোম্পানিগুলোর নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। গ্রেডিং পদ্ধতির কারণে তামাকের চাহিদামতো দাম মিলছে না। এছাড়া কোম্পানিগুলোর কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেলে তামাক আর বিক্রি হয় না, এমন মারপ্যাঁচে ঋণের ফাঁদে পড়ে গ্রামছাড়া হয়েছেন অনেকে। তাই তামাকের বিকল্প চাষি হিসেবে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা।

এনজিও ইপসার প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘তামাকচাষিদের উদ্বুদ্ধ করব যাতে তারা বিকল্প অর্থকরী ফসলগুলো চাষ করেন। আমাদের টার্গেট ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।’