টেস্ট ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পথচলা শুরু ১৯৩০ সালে। ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলেছিল তারা। সেই থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে ৯০ বছর পার করেছে কিউইরা। আক্ষেপের বিষয় এই দীর্ঘ টেস্ট পরিক্রমায় দেশটির হয়ে ম্যাচ খেলায় সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র তিনজন। ২১ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্ট দিয়ে এই ছোট্ট তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন রস টেইলর। নিউজিল্যান্ডের হয়ে শততম টেস্টের মাইলফলক ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে এই ব্যাটসম্যান। শুধু তাই নয়, ৯৯ টেস্ট খেলা টেইলর সামনের শুক্রবারে খেলতে নামলেই একটি রেকর্ডে ‘একমাত্র’ ক্রিকেটার হিসেবে নাম তুলবেন তিনি। হয়ে যাবেন তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ ম্যাচ খেলা প্রথম ক্রিকেটার। নিজের ল্যান্ডমার্ক টেস্টের এক সপ্তাহ আগে অনুশীলনের ফাঁকে ক্রিকইনফোকে জানালেন নিজের এই দীর্ঘ পথচলার নানা অজানা কথা
১০০ টেস্ট, সব আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে ১০০ ছোঁয়ার কৃতিত্ব। এতদূর আসার কথা ভেবেছিলেন?
টেইলর : অবশ্যই না, এখনও মনে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমার প্রথম টেস্ট সিরিজের পর আমি জানতাম না টেস্টে আর সুযোগ পাব কি না। ভাগ্যক্রমে সুযোগ পেতে থাকলাম। আর সব ফরম্যাটে ১০০’র ব্যাপারটা হয়তো সময়ের কারণে হয়ে গেছে। কারণ ২০০৫-এ টি-টোয়েন্টি চালু হলো, আর আমি ক্যারিয়ার শুরু করি ২০০৬-এ। তাই খেলতে খেলতে হয়ে গেছে। এটা আসলে দারুণ ব্যাপার। বিশ্বাস করি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকেই এই কীর্তি গড়বে। বিশেষ করে আমার পেছনে যে ব্যাট করছে (ওই সময় কোহলি টেইলরের পেছনে নেটে অনুশীলন করছিলেন) সে সম্ভবত সব ফরম্যাটে ২০০টা করে ম্যাচ খেলবে।
কখন থেকে আপনার বিশ্বাস জন্মাল যে আপনি লম্বা টেস্ট ক্যারিয়ার পেতে যাচ্ছেন?
টেইলর : খুব সম্ভবত এখান থেকেই (হ্যামিল্টন। দুই দল হ্যামিল্টনে অনুশীলন করছে)। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাজে করায় ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের দল থেকে বাদ পড়ি। কিন্তু পরের সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও দলে সুযোগ পাই এবং হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করি। তখন মনে হচ্ছিল এই ফরম্যাটে আমি খেলতে পারব। সেটা ছিল আমার তৃতীয় টেস্ট। কাকতালীয়ভাবে ওয়ানডেতেও তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করি। তো শুরুতে এই সাফল্যগুলো আমাকে ক্যারিয়ার লম্বা করতে সাহায্য করেছে।
১০০তম টেস্ট খেলা নিয়ে আপনি নিজে কী ভাবছেন?
টেইলর : মনে হচ্ছে বয়স হয়েছে! আসলে ক্রিকেটে আমি যা পেয়েছি এর জন্য আমি সত্যিই খুশি। টেস্ট ক্রিকেট বা সব ধরনের ক্রিকেটে অনেক উত্থান-পতনের মধ্যে পার করেছি এবং সবকিছু থেকেই কিছু শিখেছি। আর শততম টেস্টটা ওয়েলিংটনে খেলতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যের। এখানে আমার পরিবার ও অনেক বন্ধু আছে। এখানে এই মাইলফলক করতে পারাটা ক্যারিয়ার শেষে আমাকে অনেক স্মৃতি মনে করতে সাহায্য করবে।
এই শততম ম্যাচ খেলার আবেগটা কি ম্যাচের ফোকাস থেকে আপনাকে সরিয়ে আনবে?
টেইলর : আসলে দিন শেষে এটা আরেকটা ম্যাচ মাত্র। বরাবরের মতো এদিনও আমি দলের জন্য যতটা সম্ভব করতে চাই। আর একই সঙ্গে সময়টাকে উপভোগও করতে হবে। যতটা উপভোগ করব ততটাই আমার জন্য ভালো খেলা সহজ হবে এবং সময়টা স্মরণীয় করা সহজ হবে।
আপনার চোখের সমস্যা ছিল এবং ফর্মটাও ভালো যাচ্ছিল না। কিন্তু অস্ত্রোপচার করার পর থেকে যেন নিজেকে নতুন করে ফিরে পেয়েছেন। আগের চেয়ে এখন খেলাটাকে কি বেশি উপভোগ করছেন?
টেইলর : আমি সব সময়ই ক্রিকেট উপভোগ করেছি। আমার অস্ত্রোপচার হয়েছিল দুই কি তিন বছর আগে। সে সময়টা খুব কঠিন ছিল। আমি জানতাম না এই সিদ্ধান্তটা আমার জন্য ভালো না খারাপ। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর আমি উপলব্ধি করলাম কেন আরও আগে এটা করিনি। দেখলাম, আমি আগের চেয়ে খুব ভালোভাবে বল দেখতে পারছি। এখন খেলা আমার জন্য আরও সহজ হয়েছে। এখন আমি নিজের ফর্ম নিয়ে বেশ খুশি।
যারাই এমন দীর্ঘ ক্যারিয়ার পেয়েছেন তাদের সবাইকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আপনিও কি বিষয়টা এভাবে দেখেন?
টেইলর : আমি বলব যেটা করতে চেয়েছি তা পেরেছি, মানে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা। আমার চেয়ে আমার পরিবার বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে কাছে পায়নি, স্ত্রী তার স্বামীকে পাশে পায়নি। তো আমার চেয়ে ওরাই বেশি কিছু ত্যাগ করেছে। আমি নিউজিল্যান্ডের ক্যারিয়ার বেশ উপভোগ করেছি এবং যতদিন পারব সেটাই হবে। যেদিন অবসরে যাব সেদিন এই অপূর্ণতাগুলো পূরণ করব অবশ্যই।
টেস্টে যতগুলো ইনিংস খেলেছেন, তার মধ্য থেকে সেরা তিনটি ইনিংস বলুন।
টেইলর : আমি কি চারটা বলতে পারি? কারণ এই চারটাই আমার কাছে সেরা। আমার সবচেয়ে সেরা ইনিংসটি ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টারে। সম্ভবত ১৫৮ (১৫৪ অপরাজিত)। ওই ম্যাচে আমরা হেরেছিলাম কিন্তু সেটা আমার পছন্দের ইনিংস। দ্বিতীয় ২০১২ সালে কলম্বোতে ১৪০ ও ৭০ (১৪২ ও ৭৪) এবং ওই ম্যাচে আমরা জিতেছিলাম। তৃতীয় ২০১৫ সালে পার্থের ২৯০। এই ইনিংস দিয়ে আমি এটা প্রমাণ করতে পেরেছিলামÑ ২০০ করা মানেই কাজ শেষ নয়। আর শেষটা এমনকি সবচেয়ে আন্ডাররেটেড হলো ২০১৪ সালে দুবাইয়ে সেঞ্চুরি। ওই সেঞ্চুরি দিয়ে আমরা কিন্তু ম্যাচ-হার বাঁচিয়েছিলাম।