প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির প্লেসমেন্টসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা (লকইন) তুলে নেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। এসব শেয়ারে বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হলে লেনদেনযোগ্য (ফ্রি-ফ্লোট) শেয়ারের সংখ্যা বাড়বে, যা শেয়ারের অতিমূল্যায়ন রোধ করবে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানান বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান।
তিনি জানান, যখন কোনো কোম্পানির আইপিও বাজারে আসে, কাঠামোগত কারণে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের সংখ্যা কম থাকে। আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের শুরুতে উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্লেসমেন্টধারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এতে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কারসাজি করে দর বাড়ানোর সুযোগ থাকে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বাদ দিয়ে বাকি শেয়ার কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেয়ার যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হতো।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় আইপিওতে ১০-২০ গুণ বেশি ওভার সাবস্ক্রিপশন হচ্ছে জানিয়ে বিএমবিএ সভাপতি বলেন, স্বল্পসংখ্যক শেয়ার লেনদেনযোগ্য থাকায় আইপিও শেয়ার শুরুতেই অতিমূল্যায়িত হচ্ছে। অথচ আইপিও রুলস তৈরির পর কয়েক বছর আইপিও শেয়ারগুলো যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হতো। ১০ টাকার শেয়ার ১২-১৩ টাকায় কেনাবেচা হলে বাজারের জন্যও ভালো হতো, বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকও কমত। যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হলে আইপিও শিকারিরাও টাকা পুঁজিবাজারের বাইরে নিয়ে যেতে পারত না। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এসব অপ্রত্যাশিত কাজ বন্ধ করতে হবে।
কোম্পানির আইপিওর মান নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু মান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ পান না বলে জানান মার্চেন্ট ব্যাংকার্স সভাপতি। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি আইপিও প্রায় ৪০০ তথ্য ও শর্ত পালন ও প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে আরও তথ্য ও শর্ত যোগ করে আইপিওর মান উন্নয়নের সুপারিশ এলে তা বিবেচনার জন্য কমিশনে পাঠানো যেতে পারে।
ছায়েদুর বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের ব্র্যান্ডভ্যালুর কোম্পানিগুলোকেও বাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে উৎসাহিত করতে নীতি-সহায়তা দরকার। এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মতিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মাহবুব এইচ মজুমদার, নুর আহামেদ, মো. হামদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।