ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষককে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রিজেন্ট বোর্ডের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে জানান, যৌন হয়রানির অভিযোগে বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রমজান আলীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেহেতু গতকাল (শনিবার) এ সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেজন্য এখনো চিঠি পাঠানো হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই ওই শিক্ষকের কাছে এ চিঠি পৌঁছে যাবে।
লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক আমাকে প্রায়ই তার বাসায় যেতে বলেন। একবার তিনি আমাকে গবেষণাকাজের জন্য একটা নমুনা বীজ সংগ্রহ করতে বলেন। আমি ঝিনাইদহের এক ব্যবসায়ীর খোঁজ দেই তাকে। তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করি। পরে কিছুদিন ধরেই কয়েক দফায় তিনি আমাকে খাতা দেখার জন্য ও গবেষণাপত্র লেখার জন্য তার বাসায় যাওয়ার জন্য জোর করেন। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ বাসাতেই করতে হবে। এর জন্য নিরিবিলি পরিবেশ দরকার। অনেক সময় তোমাকে আমার সঙ্গে বাইরে যেতে হবে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক আমাকে কুপ্রস্তাব দেন।’
এর আগে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের এক ছাত্রী তার মাস্টার্স প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভাগের চেয়ারম্যানসহ ৩ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটি ৩১ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে রমজান আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এর কয়েক মাস পর ইউটিউবে ২৩ মিনিটের একটি অডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আবার সমালোচনার ঝড় ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সহ দিনাজপুরে। চার খন্ডের ওই অডিও থেকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলীর স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে বিভিন্ন নারী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলন করে আসছিল। এ ছাড়াও গৃহকর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, যৌতুক আইনে একটি মামলাও করেছিলেন তার স্ত্রী। রিজেন্ট বোর্ডে দফায় দফায় এসব বিষয় উত্থাপন করা হলেও এতদিন কোনো সমাধান হয়নি। অবশেষে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড শিক্ষক রমজান আলীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের খবর পাওয়া গেল।