বুড়িমারী স্থলবন্দর সুরক্ষা কমিটির সভাপতিও মারা গেলেন সিলোকোসিসে

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত পাথর ভাঙা শ্রমিক সরদার ও বুড়িমারী স্থলবন্দর পাথর ভাঙা শ্রমিক সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মমিনুল রহমান (৪০) মারা গেছেন।

গত শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। মমিনুল উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা গ্রামের বাসিন্দা।

মমিনুলের বড় ভাই আসাদুল ইসলাম জানান, মমিনুল সিলোকোসিসে আক্রান্ত হয়ে হাড্ডিসার হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে বুড়িমারীতে একটি পাথর ভাঙা কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। আট-নয় বছর ধরে সিলোকোসিসে আক্রান্ত মমিনুল জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুই সপ্তাহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে আসেন। শনিবার আবার অসুস্থ বোধ করলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

মমিনুলের অধীনে ২০০৫ সালের দিকে ২৫ জন শ্রমিক বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথর ভাঙা কারখানায় কাজ শুরু করেন। তার অধীনে থাকা ২৫ শ্রমিকের মধ্যে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কামাল মারা যান। সর্বশেষ মমিনুলসহ এ পর্যন্ত এ রোগে ওই দলের ২৩ শ্রমিক মারা গেছেন। বাকি দুই শ্রমিকও এ রোগে ভুগছেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম নেওয়াজ নিশাত বলেন, একের পর এক সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। এ রোগে আক্রান্ত ইউনিয়নের আরও ৭০ গরিব রোগী একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, এ রোগে মমিনুলসহ ইউনিয়নের ৬১ শ্রমিক মারা গেলেন।