যাত্রীবাহী বাসে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ

গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে এক গৃহবধূ (৩৫) দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে নগরীর ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকার ঢাকা বাইপাস সড়কে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার পর ওই রাতেই এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার আদালতেস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।

অভিযুক্তরা হলো বাসচালক শেরপুরের নকলা থানার ধনাকুশ গ্রামের আমীর হোসেন (২৭), বাস কন্ডাক্টর ইশিবপুর এলাকার অমিত শীল (২২) ও বাসের হেলপার ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ঠাকুরবাহাই এলাকার মো. মোজাম্মেল (২৩) ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুধবার রাতে টঙ্গী থেকে গাজীপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান ওই গৃহবধূ। পরে ওই রাতেই টঙ্গী যাওয়ার উদ্দেশে স্থানীয় মেম্বারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ইছামতি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি নগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছানোর পর বাসে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে দেয় বাসচালক ও তার সহকারীরা। তখন বাসটিতে ওই গৃহবধূ ছাড়াও আরও এক নারী (৫০) ছিলেন। একপর্যায়ে ওই দুই নারী বাস থেকে নামার চেষ্টা করলেও চালকের সহকারীরা তাদের ধাক্কা দিয়ে বাসের ভেতরে ঢুকিয়ে দ্রুত গতিতে ভোগড়া পেয়ারাবাগানের দিকে চলে যায়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে ভোগড়া এলাকার গরুকাটা ব্রিজের কাছে নিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে (৫০) বাসের পেছনে বেঁধে রাখে। এরপর রাত ১২টার দিকে ওই গৃহবধূকে (৩৫) গামছা দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে চালক ও তার সহকারীরা মিলে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। পরদিন ভোরে তারা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি (তদন্ত) নন্দলাল চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আটকে রাখা ওই নারী (৫০) একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।