দক্ষিণই ফাইনালে, প্রতিপক্ষ পূর্ব

‘চালাকি’ করতে গিয়ে হারতেই বসেছিল দক্ষিণাঞ্চল। শামসুর রহমান শুভর সেঞ্চুরি, নাসুম আহমেদের ৮৫’র পরও ৩৭২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় তারা। ফরহাদ রেজা-শফিউল ইসলাম ১০ম জুটিটা ভাঙলেই ফাইনালে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে খেলত মধ্যাঞ্চলই।

কিন্তু গতকাল বিএসিএল’র তৃতীয় তথা শেষ রাউন্ডের শেষ দিনের বিকেলে ধৈর্যের সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিয়েছেন ফরহাদ-শফিউল। ৫৮ বলের জুটিতে রান এসেছে ১৪ রান। এর মাঝে ১ রান মাত্র শফিউলের। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ২৬টি বল খেলেও উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেননি শফিউল। অন্যদিকে ফরহাদ রেজাও ৯১ বলে ২৭ রান করে ম্যাচটা ড্র করেই মাঠ ছাড়েন।

এতে দক্ষিণের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৩ খেলায় ১৯.৮৯। কক্সবাজারের অন্য মাঠে জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া ইয়াসির আলি চৌধুরীর ‘জোড়া’ সেঞ্চুরির সঙ্গে অভিজ্ঞ আশরাফুলের হার না মানা ৭০ রানে উত্তরাঞ্চলকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পূর্বাঞ্চল। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রামের টেস্ট ভেন্যুতে ৫ দিনের ফাইনাল শুরু হবে।

এ নিয়ে তৃতীয়বার দক্ষিণ-পূর্ব ফাইনাল হচ্ছে বিসিএলে। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুম এবং গতবার ফাইনাল খেলেছিল দুদল। কিন্তু দুবারই জিতেছে দক্ষিণ। ৭ বারের বিসিএলে এখন পর্যন্ত সেরা দল তারা। জিতেছে ৪ শিরোপা। পূর্বাঞ্চল এর আগে ৩ বার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা রয়ে গেছে অধরা।

শেষ বিকেলে দারুণ লড়াই

৫০৭ রানের লক্ষ্যে ৪ উইকেটে ১৫৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু দক্ষিণের প্রথম সেশন কাটে ঝামেলা ছাড়াই। আরও ৭২ রান যোগ করেন শুভ ও নাসুম। লাঞ্চের পর ১২৫ ম্যাচের ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি তুলে নেন শুভ। তাকে ১৩৩ রানে ফিরিয়ে দেন ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা মেহেদী হাসান মিরাজ। চা-বিরতির আগে নুরুল হাসান সোহানকে ফিরিয়ে অধিনায়ক শুভাগত হোম মধ্যাঞ্চলের আশা জাগিয়ে তোলেন আবার। বিরতির পর মেহেদী হাসান এবং শেষ ঘণ্টায় ৪ রানের মধ্যে নাসুম (৮৫) ও দক্ষিণের অধিনায়ক রাজ্জাক (৪) ফিরে গেলে জমে ওঠে ম্যাচ। কিন্তু ফরহাদ-শফিউল প্রায় ১০ ওভার কাটিয়ে দেন দাঁতে দাঁত চেপে। তবে ৩৪২ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৪৬ বলে ৮৫ রান করার পুরস্কার পেয়েছেন নাসুম আহমেদ ম্যাচ সেরা হয়ে।

ইয়াসিরের ডাবল, নাঈমের ১৩ উইকেট

৮ উইকেট নিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রথম ইনিংস ২৭২ রানে গুটিয়ে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান। গতকাল আবার ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাতে উত্তরের দ্বিতীয় ইনিংস ২৬৯ রানেই থেমে যায়। তাতে ৩৬ ওভারে জয়ের জন্য ২১১ রান প্রয়োজন পড়ে পূর্বাঞ্চলের। মাত্র ১৮ রানেই পিনাক ঘোষ ফিরে গেলেও আশরাফুল-ইয়াসির জুটিতেই জয়ের পথে হাঁটতে থাকে ইমরুল কায়েসদের দল। ১৭০ রান যোগ করেন দুজনে মাত্র ২৬ ওভারে। প্রথম ইনিংসে ১৬৫ রান করা ইয়াসির এবার ১১০ রান করেছেন মাত্র ৮৮ বলে (৮ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায়)। ৮৬ বলে ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মধ্যাঞ্চল : ২৩৫ ও ৩৮৫/৮ (ডিক্লে.)। দক্ষিণাঞ্চল : ১১৪/৪ (ডিক্লে.) ও ৩৮৬/৯ (শামসুর শুভ ১৩৩, নাসুম ৮৫, মিরাজ ৪/১৩৬)।

ফল : ম্যাচ ড্র। ম্যাচসেরা : নাসুম আহমেদ

..............................................

উত্তরাঞ্চল : ২৭২ ও ২৬৯ (নাঈম হাসান ৫/১০১)।  পূর্বাঞ্চল : ৩৩১ ও ২১১/২ (ইয়াসির ১১০, আশরাফুল ৭০*)।  ফল : ৮ উইকেটে জয়ী পূর্ব।

ম্যাচসেরা : ইয়াসির আলী