শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি সামসুর রহমান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন শিকদার ও ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে ছয় ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।
সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ইয়ামিন শিকদার (২৫) সরকারি সামসুর রহমান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আর মারুফ হোসেন (২০) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য । তিনি ওই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
কলেজ সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে কলেজ ক্যানটিনে যাওয়ার সময় ছাত্রীদের গতিরোধ করেন ইয়ামিন শিকদার ও মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র। এ সময় তারা ছাত্রীদের বাজে প্রস্তাব করেন এবং একজনকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করেন তারা। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্রীরা ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রীরা বলেন, 'সোমবার দুপুরে আমরা কলেজের ক্যানটিনে খাওয়ার জন্য যাচ্ছিলাম। পথের মধ্যে ইয়ামিন ও মারুফের নেতৃত্বে কয়েকজন ছেলে এসে আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। তখন একজন ছেলে বলে দোস্ত কোনটাকে প্রপোজ করব বোরকা পড়াটাকে, নাকি ড্রেস পড়াটাকে। এগুলো বলে হাসাহাসি শুরু করে তারা। তারা এমনভাবে দাঁড়িয়েছিল আমরা কোনোভাবে যেতে পারছিলাম না। পরে আমাদের একজনকে ডাক দেয় এবং প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং তা মোবাইলে ভিডিও করে। এতেও তারা থামেনি আমাদের পিছন পিছন মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে করতে আসে। তারপরও আমরা কিছু বলিনি'।
তারা আরো বলেন, পর দিন মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে ইয়ামিনের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র বিভিন্ন ভাষায় আমাদের বাজে মন্তব্য করেন, যা বলার মতো নয়। মেহেদী মিরাজ নামের একটা ছেলে বহিরাগত ছিল সে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়। আর বলে বোম মেরে ফাটিয়ে দেবে। এ নিয়ে আমরা ও আমাদের পরিবার দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক মোল্লা বলেন, সেদিন আমি কলেজে জাতীয় সঙ্গীত মহড়ার মধ্যে ছিলাম। ওখান থেকে আসার পর কলেজের ছয় ছাত্রী আমার কাছে অভিযোগ করে তাদের কয়েকজন ছাত্র উক্ত্যক্ত করেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক পরিষদের সভা ডাকি এবং পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, ইভটিজিংয়ের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। জেনেছি এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।