মৃতের নামে ঋণবাণিজ্য

ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি গ্রামের বাসিন্দা সদাশিব সাতপুতে ২০১৪ সালের ২৭ মার্চে ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে ব্যাংকের দাবি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্ধ্র ব্যাংক তাকে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৯০ রুপি ঋণ দেয়। কিন্তু সদাশিব ওই ঋণের আবেদন করার তিন মাস আগেই মারা যান। এই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে একজন মৃত মানুষ ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।

মুম্বাইয়ের হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সদাশিবের ঘটনাটি তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের অর্থনৈতিক শাখাকে নির্দেশ দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সদাশিবের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে বিশাল এক চক্রের সন্ধান পান। ২০১৯ সালে ওই তদন্তকারী দলটি আখকল মালিক রত্নাকর গুত্তের মালিকানাধীন দশটি স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে জানা যায়, রত্নাকরের গঙ্গাখেত কোম্পানি ও এনার্জি লিমিটেড ২০১২-২০১৩ ও ২০১৬-২০১৭ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে রাজ্যের সাতটি ব্যাংক থেকে ৫৭৮ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছে। আর এই ঋণ নিতে তারা ২৪ হাজার কৃষকের নাম ব্যবহার করেছে।

অর্থপাচারের মামলায় রত্নাকরের জেল হয় ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। কিন্তু জেল থেকেই অক্টোবরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেয় রত্নাকর এবং জিতে যান। পাঁচ বছর আগে রাজ্যটিতে রাষ্ট্রীয় সমাজ পার্টি জনসমক্ষে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে। ২০১৯ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে ওই মিত্রতায় ছেদ পড়ে। কিন্তু তাতে রত্নাকরের কিছুই হয়নি।

রত্নাকরকে নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মহারাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী অনিল বোনদে ও বিধানসভার চিফ হুইপ আশিষ শেলার। আল জাজিরা বিষয়টি নিয়ে বিজেপির নেতা দেবেন্দ্র ফাদনাবিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফাদনাবিশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে’। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রত্নাকরের বিরুদ্ধে গেলে রাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

মৃত যেসব কৃষকের নামে রত্নাকর ঋণ নিয়েছেন, তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বেঁচে গেলেও যে সব কৃষক বেঁচে আছেন তারা সমস্যায় পড়েছেন। জীবিত কৃষকরা ভয়ে রত্নাকরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

২০১৮ সালে সুলোচন তালে একটি ব্যাংক নোটিস পান। নোটিসে তাকে দুই লাখ ৯০ হাজার ৫৪৩ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। ওই নোটিস পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন সুলোচন। কয়েক বছর আগে সুলোচন তার উৎপাদিত আখ রত্নাকরের কারখানায় বিক্রি করবেন। ফলে রত্নাকরের কাছে সুলোচনের যাবতীয় তথ্যাদি ছিল। ওই তথ্য কাজে লাগিয়েই সুলোচনের মতো অনেকের নাম নিয়ে ঋণ নেন রত্নাকর।