রাতের আকাশে তারাদের দিকে চেয়ে অনেকেই ভাবেন, এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের কোনো একটিতেও কি আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই? অনেকেই বিশ্বাস করেন দূরের কোনো গ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এমনকি তারা তাদের মহাকাশ যান নিয়ে পৃথিবীতেও আসে। এসব মহাকাশ যান স্বচক্ষে দেখারও দাবি করেন অনেকে। বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে এলিয়েনের খোঁজ পেতে বহু বছর ধরে বেশ কয়েকটি মিশন পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লিখেছেন পরাগ মাঝি
পেন্টাগনের ইউএফও প্রকল্প
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি চাঞ্চল্যকর খবর নজর কাড়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের। সে-সময় মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইউএফও নিয়ে পেন্টাগন বিপুল অর্থের গোপন প্রকল্প চালিয়েছে। এ প্রকল্পের কথা জানতেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০১২ সালেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের নথিগুলোতে অদ্ভুত দ্রুতগতিসম্পন্ন আকাশযান ও শূন্যে ভাসতে থাকা বস্তু নিয়ে পেন্টাগনের গোপন অনুসন্ধানের কথা বলা হয়। অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রিডের চিন্তা থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কর্মসূচি শুরুর সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে রিড বলেছিলেন, ‘এই কর্মসূচি চলতে দেওয়ার কারণে আমি বিব্রত, লজ্জিত বা দুঃখিত নই। আমি এমন কিছু করেছি যা আগে কেউ করেনি।’
‘দ্য অ্যাডভান্স অ্যারোস্পেস থিয়েটার আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ নামের ওই কর্মসূচি নিয়ে এক কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করে সিআইএ। জানা যায়, ইউএফও প্রকল্প চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ২ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। পরে খরচ বাঁচাতে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, ২০১২ সালে তহবিলের জোগান বন্ধ হলেও কর্মকর্তারা তাদের দৈনন্দিন দায়িত্বের পাশাপাশি আকাশে উড়ন্ত অদ্ভুত ও সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ওই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই আরও একবার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় একটি ভিডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে। এতে দেখা যায়, মার্কিন এক যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করেছে অজানা এক উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও)। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের গোয়েন্দা অফিসার লুইস এলিজোন্দো পেন্টাগনের সদ্য প্রকাশ করা গোপন ইউএফও ফাইল থেকে নেওয়া ওই ভিডিও দেখিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের আকাশে ওই উড়ন্ত চাকতির সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের। ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে হঠাৎ ডিমের মতো ওই উড়ন্ত চাকতিকে দেখে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানের পাইলটেরা ভীষণ চমকে গেছেন। পরে অবশ্য সেই ভিডিও ও উড়ন্ত বস্তুর কথা স্বীকার করে নিলেও একে ভিনগ্রহীদের স্পেসক্রাফট বা ইউএফও বলতে নারাজ তারা।
ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের ব্যবহৃত ইউএফও নিয়ে মার্কিনিদের অনুসন্ধান নতুন কিছু নয়। এর আগে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ২২ বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনী অন্তত ১২ হাজারটি ইউএফও দেখার দাবি যাচাই-বাছাই করে। বিমানবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ব্লু বুক’-এ সেই সব ঘটনা নথিভুক্ত ছিল। কিন্তু নানা রকমের প্রশাসনিক চাপে মার্কিন বিমানবাহিনীর সেই প্রজেক্ট ব্লু বুক ‘সিল’ করা হয়। যুক্তি দেওয়া হয়, ‘সমকালীন বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি দিয়ে ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
ইউএফও কী
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর সিনেমায় দেখা যায় এলিয়েনরা বিশাল বিশাল মহাকাশযানে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলোকে অনেকেই ফ্লাইং সসার বা উড়ন্ত চাকতি বলেন। আবার কেউ বলেন ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট’ বা ইউএফও। ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন বিমানবাহিনী যেকোনো ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট’ বোঝাতে ‘ইউএফও’ শব্দটি ব্যবহার শুরু করে। যারা ইউএফও নিয়ে খুবই আগ্রহী এবং এটা নিয়ে গবেষণা করে তাদের বলা হয় ইউএফওলজিস্ট। তারা ইউএফও শব্দটি ব্যবহার করে অন্য গ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের আকাশযানকে বোঝাতেন।
প্রচলিত ধারণা মতে, এ ধরনের ইউএফও’তে করে এলিয়েনরা দূরের কোনো গ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসে। আবার চলেও যায়। কাছাকাছি অবস্থানে কোনো ইউএফও চলে এলে নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনা যেমন রেডিও টেলিভিশনের নেটওয়ার্কে বাধা, গাড়ির ইঞ্জিন চালু না হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নানা সময়ে বর্ণনা করেছেন। অনেক সময় ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের তার বা গাছের সঙ্গে মাকড়সার জালের মতো বস্তু ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। এগুলো নাকি কোনো কিছুর স্পর্শ পেলেই মাটিতে পড়ে যেত। আর কী পদার্থ দিয়ে এসব জিনিস তৈরি তা বের করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ইউএফওলজিস্টরা।
যেসব মানুষ ইউএফও দেখার দাবি করেন তারা এই ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী যে তারা নিশ্চিতভাবেই এটা দেখেছেন। কিন্তু বাস্তববাদীদের মতে, ইউএফও ব্যাপারটা সত্য না মিথ্যা এর কোনোটার পক্ষেই উপযুক্ত প্রমাণ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইউএফও দেখার ঘটনাকে ওয়েদার বেলুন বা উল্কাপাত বা গুজব বলে আখ্যা দিয়ে আসছে প্রচলিত সংবাদ মাধ্যম ও রাষ্ট্রব্যবস্থা।
এলিয়েন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, স্টিফেন হকিং-এর মতো বিজ্ঞানীও এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে বলে মনে করেন। অনেকে আবার এলিয়েন দেখারও দাবি করেন। যারা এলিয়েন দেখেছেন বলে দাবি করেন তাদের অনেকের মতে, এলিয়েনরা নাকি কোনো পোশাক পরে না। কারও দাবি, এলিয়েনরা লম্বা জোব্বা পরে থাকে। তাদের মুখ ঢাকা থাকে লম্বা হুডে। তারা দেখতেও ভয়ংকর হয়। আবার কেউ বলেছেন সুপারম্যানের মতো জাম্পস্যুট পরে থাকে এলিয়েনরা।
এলিয়েনের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা যে ধরনের চেহারার দাবি করেছেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো পৃথিবীর প্রাণীদের কাছাকাছি চেহারার। আবার সম্পূর্ণ আলাদা বিবরণও পাওয়া যায়। আবার সত্যি সত্যি মহাবিশ্বে এলিয়েনের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না এ নিয়েও দ্বিধার অন্ত নেই। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। আর তাদের অনেকেরই ধারণা এলিয়েন আমাদের মাঝেই হেঁটে বেড়াচ্ছে। বাস্তবে তার প্রমাণ মিলুক বা না মিলুক অন্ততপক্ষে প্রতি পাঁচজনে একজন মানুষ এমনটাই বিশ্বাস করেন।
এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে কি নেই থাকলে তারা কোথায় কীভাবে রয়েছে এ নিয়ে রয়টার্স বিশ্বের ২২টি দেশের অন্তত ২৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছিল। এতে দেখা গেছে, ভারত এবং চীনে এলিয়েনে বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। এই দুটি দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন এলিয়েনরা মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া দেখা গেছে, এলিয়েনে বিশ্বাস নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি। পুরুষদের মধ্যে এমন বিশ্বাস ২২ শতাংশ হলেও নারীদের মধ্যে তা ১৭ শতাংশ। আর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এলিয়েনে বিশ্বাস বেশি।
পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে অন্য কোনো প্রাণী আছে কি না সেই তর্কবিতর্ক চলছে এখনো। মহাশূন্যে কোথাও কেউ আছে কি না মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা। আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরের কোনো সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রজেক্ট চালু করেন। এখন ১০টিরও বেশি দেশে এ ধরনের অনুসন্ধান কাজ চলছে। যদিও বহির্বিশ্ব থেকে এখনো বিচ্ছুরিত কোনো সংকেত ধরা পড়েনি।
আমাদের পৃথিবী যে গ্যালাক্সির বাসিন্দা তার নাম হলো মিল্কিওয়ে। এমন কোটি কোটি গ্যালাক্সির মধ্যে শুধু মিল্কিওয়ে ছায়াপথেই রয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র। বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর ধারণা, এই মহাবিশ্বে আমরা মোটেও একা নই। আমাদের মতো আরও অনেক বুদ্ধিমান প্রাণীই নাকি ছড়িয়ে আছে মহাবিশ্বে।
ইউএফও দেখার দাবি
খ্রিস্টপূর্ব ১৫ শতকে অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিসরের ফারাও ছিলেন তুতমখুম। সেই সময়ই মিসরের আকাশে এক বিচিত্র আগুনের গোলা দেখতে পায় মানুষ। তুতমখুমের সৈন্যরা সেই অগ্নিগোলকের উৎস খুঁজে পেতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই গোলা অদৃশ্য হয়ে যায়। রহস্যময় সেই আগুনের গোলাকে অনেকেই ইতিহাসের প্রথম দেখা ইউএফও বলে মত দেন।
এবার আসা যাক, ষোড়শ শতকের আরেকটি ঘটনায়। সেই সময় পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষ কোনো মহাকাশ যান তৈরি করতে না পারলেও ১৫৬১ সালের ১৪ এপ্রিল জার্মানির ন্যুরেমবার্গের অধিবাসীরা রহস্যময় এক ধাতব বস্তুকে উড়তে দেখেন! ১৭৫৬ সালে সুইডেনের লোকেরাও দেখেছিলেন এমন অদ্ভুত রহস্যময় বস্তু। ১৯৮০ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে একটি ত্রিকোনাকার বস্তু সন্ধ্যার পর প্রায়ই দেখা যেত। কালো বস্তুটির তিন কোনায় তিনটি লাল আলো, মাঝে সবুজ বৃত্ত। কয়েকদিন পর আকাশযানটি অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই সময় আবার ইংল্যান্ডেও ইউএফও দেখতে পাওয়ার দাবি করতে শুরু করেন অনেকে।
প্রজেক্ট ব্লু বুক
১৯৪৮ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী ইউএফও নিয়ে ব্যাপক তদন্ত করার জন্য ‘প্রজেক্ট সাইন’ নামে একটি প্রোগ্রাম শুরু করে। পরে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘প্রজেক্ট ব্লু বুক’। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে মার্কিন সরকার ১২ হাজারেরও বেশি ইউএফও দেখার ঘটনার তদন্ত শেষ করে। এগুলোর মাঝে ১১ হাজার ৯১৭টি ঘটনা ওয়েদার বেলুন ও স্যাটেলাইট দেখা বা আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা যেমন- বিজলি চমক ও প্রতিফলন, মহাজাগতিক ঘটনা বা গুজব বলে প্রমাণিত হয়। বাকি ৭০১টি ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়নি বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে প্রোজেক্ট ব্লু বুক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রোজেক্ট ব্লু বুকের উপসংহারে বলা হয়- কোনো ইউএফও দেখার ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে জানা বিজ্ঞান বা তথ্যের বাইরে কোনো উন্নত টেকনোলজি ধারণ করে পৃথিবীর ভেতর বা বাইরের এমন কোনো প্রজাতি বা জাতিগোষ্ঠীর ব্যাপারে কেউ প্রমাণ দেখাতে পারেনি বা বিমানবাহিনীর তদন্তে প্রমাণ হয়নি। ইউএফও যে পৃথিবীর বাইরের প্রাণীরা পরিচালনা করে এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এরিয়া ৫১
প্রোজেক্ট ব্লু বুকের মাধ্যমে ইউএফও নেই বলে সরকারি ঘোষণা থাকলেও কিছু কিছু মানুষ মনে করতেন সরকারিভাবে কিছু ব্যাপার গোপন করা হচ্ছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর সঙ্গেও ইউএফও সংশ্লিষ্টতার কথা দাবি করেন অনেকে। ১৯৭৮ সালে নিউ অরলিন্স অঙ্গরাজ্যের একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তিন মহিলা। তারা হঠাৎ দেখলেন, একটি অদ্ভুত আকাশযান উড়ে যাচ্ছে। তাকে তাড়া করে উড়ে যাচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনীর ১৭টি হেলিকপ্টার। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেলে তাপ অনুভব করলেন তারা। দিগন্তে মিলিয়ে গেল হেলিকপ্টার আর আকাশযান। তখন কিছু বুঝতে না পারলেও রাতে শুরু হলো প্রদাহ। চোখ জ্বলছে, শরীর জ্বলছে। সবারই একই অবস্থা। পরদিন তারা স্থানীয় ডাক্তারের কাছে সবকিছু খুলে বললেন। ডাক্তার স্থানীয় এক পত্রিকাকে ঘটনাটি জানালেন। পত্রিকার কাছেও অভিযোগ এসেছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে ৬-৭টি হেলিকপ্টার একত্রে উড়ে গেছে। রাস্তার ওপর ফাটল চিহ্ন দেখা গেছে। কিছুদিন পর পুলিশ রাস্তায় রোডব্লক বসিয়ে রাস্তা মেরামত করে। অনেকে মত দেন, মার্কিন বিমানবাহিনী অন্তত একটি ইউএফও আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
১০ বছর পর ১৯৮৭ সালে নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় টিভি চ্যানেলে পরিচয় গোপন করে এক পদার্থবিদ দাবি করেন, তিনি ‘এরিয়া ৫১’ নামে এক মরুভূমির মাঝে একটি সামরিক বেসে একটি ফ্লাইং সসার নিয়ে গবেষণা করেন। ওই বেসের প্রধান তাকে বলেন, এটি ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছিল এবং এর আরোহীদের হত্যা করে মার্কিন সেনাবাহিনী এটা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা এর কার্যকলাপ বুঝতে ব্যর্থ হলে একজন পদার্থবিজ্ঞানীর সহায়তা চায়।
রসওয়েলের অমীমাংসিত রহস্য
এটি ইউএফও সম্পর্কিত সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। ১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েলে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেবার রসওয়েলের আকাশে একটি অদ্ভুত আলো দেখা যায়। এর পরপরই একটা কিছু বিধ্বস্ত হওয়ার বিকট আওয়াজ শোনা যায়। ম্যাক ব্রাজেল নামের এক র্যাঞ্চ ফোরম্যান সারা রাত ঝড়বৃষ্টি হওয়ার পর তার হারিয়ে যাওয়া ভেড়া খুঁজতে গিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া অদ্ভুত বস্তুটি খুঁজে পান। পরে স্থানীয় শেরিফকে তিনি এ ঘটনাটি জানান। শেরিফ সরকারকে অবহিত করেন। ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিধ্বস্ত ‘ডিস্ক’ বা চাকতি খুঁজে পাওয়া গেছে বলা হলেও পরে এটিকে প্রত্যাখ্যান করে আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সেখানে ওয়েদার বেলুনের সৃষ্টি হয়েছিল এবং একটি রাডার ডিটেক্টর খুঁজে পাওয়া গেছে।
কোন প্রেস রিলিজটা সত্য ছিল? ইউএফও যারা বিশ্বাস করে তাদের মতে প্রথম দাবিটিই সত্য ছিল। দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিটি দেওয়া হয় সত্য লুকানোর জন্য। ইউএফওলজিস্টদের মতে এখনো সেই ঘটনার আসল সত্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের ধারণা ওই দিন একটি আসল এলিয়েন মহাকাশযান ও একটি এলিয়েন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন, মিলিটারিরা সেই বিধ্বস্ত হওয়ার জায়গা থেকে একটি শরীর খুঁজে পেয়েছে।
রসওয়েল তত্ত্বে বিশ্বাসী লোকজন মনে করেন, নেভাদার ‘এরিয়া ৫১’-এ একটি এলিয়েন স্পেসক্র্যাফট বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে মার্কিন সরকার গোপনে এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এই ব্যাপারে আরেকটা তত্ত্ব আছে যে, যারাই এলিয়েন নিয়ে আসল সত্যটা জেনে যায় সরকার তাদের চুপ করিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। তবে মার্কিন সরকার সবসময়ই এলিয়েনদের ব্যাপারে তথ্য গোপন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এ সম্পর্কে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী রে স্যান্টিলি দাবি করেছিলেন, একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে রিসার্চ করার সময় তিনি একটি ভিডিও পান যেখানে ১৯৪৭ সালে রসওয়েল থেকে উদ্ধার করা এলিয়েনটির শরীরে অপারেশন চালানো হচ্ছে। এছাড়া কাছাকাছি সময়ে একজন নার্স দাবি করেন তাকে এয়ার বেস ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তিনটি মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। তিনি বলেন, ‘তিনটি বডির অটোপসি করি আমি। এগুলোর কোনোটিই পৃথিবীর নয়, এ ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত।’
ওই নার্স প্রাণী তিনটির বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘তাদের ওখানে একটা বড় ক্রাস ব্যাগ ছিল যেটির মধ্যে দুমড়ানো মোচড়ানো খুব ছোট ছোট শরীরগুলো ছিল। যাদের মাথা দেহের তুলনায় অনেক বড়। তাদের কান ছিল না কিন্তু কানের জায়গায় ছিদ্র ছিল। তাদের নাক ছিল কিন্তু তাদের দাঁত ছিল না।’ পরে নার্সটিকে অনেক খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।