কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনের বৃক্ষনিধন

সিলেট বন বিভাগের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জের কামারছড়া বনবিটের সংরক্ষিত বনের টিলায় টিলায় চলছে বৃক্ষনিধন। অসাধু বন কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিদিন এ বনে বৃক্ষনিধন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন বনের ভেতরে সেগুন, আকাশমণিসহ অসংখ্য গাছ কেটে নেওয়ার পর গোড়া জেগে থাকতে দেখা যায়। বন থেকে পাচার হওয়া এসব গাছের গোড়া সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

কামারছড়া বনবিটের সংরক্ষিত বন ও সামাজিক বনায়ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তঘেঁষা দুর্গম এলাকার এ বনের টিলায় টিলায় প্রকাশ্য দিনের বেলায় বড় বড় গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বনের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এছাড়া বনের কালিছালিসহ বিশাল এলাকায় সৃজনকৃত সামাজিক বনায়নের গাছগাছালি কেটে সাবাড় করছে চিহ্নিত বৃক্ষখেকোরা। তারা বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বনের মূল্যবান বৃক্ষগুলো কেটে পাচার করছে। কালিছালি এলাকা থেকে আকাশি, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়ায় টিলাগুলো বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। সংরক্ষিত বনের পাশাপাশি সামাজিক বনায়নে গাছ পাচার অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই পুরো এলাকা বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বনবিট কর্মকর্তার জ্ঞাতসারেই বন দেখভালের দায়িত্বে যারা আছে তারাই এসব গাছ কেটে পাচার করছে। দুর্গম বনে টিলা থাকার সুবাধে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় তারা গাছ কেটে পাচার করছে নির্বিঘেœ। কাঠ পাচারকারী স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বনের বড় বড় গাছ কেটে নিশ্চিহ্ন করে এখন তারা ছোট গাছগুলোও কেটে সাবাড় করছে। গাছ পাচারের বিষয়ে বনবিট অফিসারকে জানিয়ে কোনো কাজ হয় না। উল্টো তারা হয়রানির শিকার হন। এ ভয়ে এখন কেউ প্রতিবাদ বা কথা বলতে রাজি হন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামারছড়া বনবিট কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বনে বর্তমানে কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না। আগের দুয়েকটি গাছ কাটা থাকতে পারে। এসব বিষয়ে মামলাও রয়েছে।

রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, কাঠ পাচারে বনবিট কর্মকর্তা জড়িতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।