টাকা না দেওয়ায় সিলেটে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্বামী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী। শুক্রবার গভীর রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে তরাজ মিয়া (৩৮) বিশ্বনাথ থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে তরাজ মিয়ার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ সময় তরাজ মিয়ার স্ত্রী হালিমা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামী একটি মামলায় ২২ মাস কারাভোগের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। কিন্তু জেলগেট থেকেই সাদা পোশাকের একদল পুলিশ তাকে ফের গ্রেপ্তার করে।
হালিমা খাতুন দাবি করেন, পরে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ৫০ হাজার টাকা দিলে তরাজ মিয়াকে ছোটখাট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে, যাতে সহজেই তিনি জামিন পান।
কিন্তু শনিবার সকালে ফেইসবুকের মাধ্যমে হালিমা খাতুন জানতে পারেন, তার স্বামী খুন হয়েছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা জানান, শুক্রবার রাতে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস সড়কের মরমপুর-সুরিরখাল এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিল একদল ডাকাত। এ সময় টহলে থাকা এসআই মিজানুর রহমান, কনস্টেবল চন্দন গৌড় ও রাসেল দাস এগিয়ে গেলে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তারা আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ডাকাত দলকে ধাওয়া করে। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাতে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত দলের সদস্য তরাজের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি পাইপ গান ও ৩টি তাজা কার্তুজও উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, নিহত তরাজের বিরুদ্ধে ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।