গাজীপুরের শ্রীপুরে সমর্থন না করায় কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে সাইফ হাসান নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। সোমবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই দিন সন্ধ্যায় আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকে না পেয়ে তার ভাইকে দোকানে ফেলে মারধর করে সাইফ। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ দু ঘটনায় শ্রীপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দুই মারধরে অভিযুক্ত সাইফ মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী। শ্রীপুর চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা সাইফ মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সাইফ কিছু যুবককে সঙ্গে নিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় নানা অপর্কম করে বেড়াচ্ছে সাইফ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগের কর্মীরা জানান, সোমবার উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুরাদ তার কয়েক কর্মী-সমর্থক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা সাইফ হাসান তার কর্মী-সমর্থক নিয়ে মুরাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
মুরাদ ছাত্রলীগ নেতা সাইফ হাসানকে সমর্থন করে না এমন অভিযোগ করে বেদম মারধর করে। এ সময় ছাত্রলীগকর্মী মুরাদ মারাত্মক আহত হয়। পরে অন্য কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে মুরাদকে পাঠানো হয়।
এদিকে একই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় উপজেলা হাসপাতাল সড়কে অপর কর্মী সাইদুলকে না পেয়ে তার বড় ভাইকে দোকানে ফেলে বেধড়ক মারধর করে সাইফ হাসান ও তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে হামলাকারী সাইফ ও তার লোকজন। হামলায় দোকানের মালিক ফারুক আহম্মেদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুটি হামলা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত ব্যবসায়ী ফারুক আহম্মেদ জানান, সন্ধ্যার একটু আগে সাইফ হাসান ও তার লোকজন আমাদের ওষুধের দোকানের সামনে এসে জানতে চায়, ‘সাইদুল কই’। এ সময় আমি বলেছি, ‘ছোট ভাই সাইদুল কোথায় সেটা জানি না’। এরপর সাইফ ও তার সমর্থকরা আমাকে মারধর শুরু করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সে চলে যায়। এ সময় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা সাইফ হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগোযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফজল মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মারামারির ঘটনা শুনেছি। এ ব্যাপারে হামলায় শিকার দুপক্ষের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
