ডব্লিউএইচও’র উদ্বেগ

কভিড-১৯ মোকাবিলার পথ ছোট হয়ে আসছে

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিকভাবেও এর প্রাদুর্ভাব কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কিন্তু ওই আশাবাদ ব্যক্তের একদিনের মাথায় সংস্থাটির প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

ড. গ্যাব্রিয়েসুস আরও বলেন, চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা কম। কিন্তু যেভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে তা উদ্বেগজনক। চীনে ভ্রমণ বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মতো স্পষ্ট মহামারীর সংযোগ না থাকার কারণে বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ইরানে মৃত্যু ও নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া খুব উদ্বগজনক বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। তবে তিনি মনে করেন, চীনসহ অপর দেশগুলো যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে এখনো ভাইরাসটির আরও বেশি ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি সম্ভাব্য মহামারী ঠেকাতে আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার চীনের স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাওয়া ও করোনাভাইরাসে নতুন রোগী আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান ও অন্যান্য দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, চীন ছাড়া বিশ্বের অন্তত ২৯টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮ জনের। মৃতদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুজন। চীনের বাইরে এই দেশেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বে এ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৬০ জনে। এদের মধ্যে ১৫ জন ছাড়া বাকি সবার মৃত্যু ঘটেছে চীনে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৩৯৭ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৮৮৯ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ২৮৮ জনে। আর ২৯টি দেশ ও তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৭ হাজার ৭৬৭ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এক দিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন শুক্রবার থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২২৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিম গ্যাং-লিপ বলেছেন, প্রাদুর্ভাব ‘মারাত্মক নতুন ধাপে’ প্রবেশ করেছে। চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার খবরের মধ্যে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত দেশটিতে দুই জন মারা গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দায়েগু এবং নিকটবর্তী চেয়োংদো শহরের হাসপাতালগুলোকে ‘স্পেশাল কেয়ার জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দায়েগু শহরের রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার ইতালির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশটিতে ৭৮ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। এর আগে দেশটিতে ১৬ জন আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ইসরায়েল ও লেবাননেও গত শুক্রবার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ জানা যায়।

ইরানের কয়েকটি শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ভাইরাসটিতে এরই মধ্যে দুজনের মৃত্যুও হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে কওম শহর থেকে। নতুন করে ১৩ জনের দেহে এ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। কওম শহর থেকে মানুষের চলাচলের মধ্য দিয়ে ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে তেহরান, বাবোল, আরাক, ইসফাহান, রাস্তা এবং অন্যান্য শহরে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিনু মোহরেজ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সব শহরেই এ ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকাও সম্ভব।’ ইরানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবরে কুয়েত তেহরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।