বৈঠক ডেকে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ‘অব্যাহতি’ দিলেন সম্পাদক

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে প্রকাশ পেয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কোন্দল। সভাপতি ও সম্পাদককে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে দুটি পক্ষের।

একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ এনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ‘অব্যাহতি’ দেয় সাধারণ সম্পাদক পক্ষ।

পর দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে এ ‘অব্যাহতি’ অবৈধ উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানায় সভাপতি পক্ষ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কার্যকরী কমিটির সভা ডেকে মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফুর রহমান রতনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সহসভাপতি শামছুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ডেকে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ ইকবাল।

তিনি বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সাজ্জাদুল হাসানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা কারণে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এ সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠান হবে।

এ দিকে রবিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারে এক প্রতিবাদ সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফুর রহমান রতনের সমর্থকরা।

উপজেলা আওয়ামী  লীগের সহসভাপতি আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে রতনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন তারা।

এ সময় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে দল থেকে বহিষ্কারের এখতিয়ার শুধু কেন্দ্রীয় কমিটির রয়েছে। তারা ২২ ফেব্রুয়ারি যে কথিত সভা ডেকেছে সেটি সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জরুরি সভা আহ্বানের এখতিয়ার শুধু সভাপতির রয়েছে এবং সাত দিনের নোটিশ ব্যতীত কার্যকরী সভা আহ্বান করা যায় না। সেই সভা আহ্বানের আগে সভাপতির কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এমনকি আমাদের কাউকে অবহিত করা হয়নি।

এ সময় আওয়ামী  লীগ ছাড়াও যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।