হাতে লেখা টিকিটেই চলছে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন

আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ডিজিটাল সেবা যুক্ত করা হয়েছে যাত্রী টিকিট প্রদানে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ঘরে বসেই অ্যাপস এর মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করছেন যাত্রীরা। অথচ এই যুগেও নীলফামারী প্রধান স্টেশন আজও মুখ দেখেনি আধুনিক প্রযুক্তির। এই স্টেশনে যাত্রী সেবা চলছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে।  

আজও বসেনি সেখানে টিকিট সংগ্রহের ডিজিটাল যন্ত্রাংশ। ফলে যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে সেই পুরোনো আমলের ছাপানো টিকিট। সেই ছাপানো টিকিটের সংকট চলছে গত ১৫ দিন ধরে। ছাপানো টিকিট শেষ হওয়ায় নীলফামারী স্টেশন থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস, সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং রাজশাহীগামী বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের মাঝে মালামাল বুকিংয়ের টাকা প্রাপ্তি রসিদকে ‘টিকিট’ বানিয়ে যাত্রীদের সরবরাহ করতে হচ্ছে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে।

ওই বিকল্প টিকিটে যাত্রা করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। লিখতে সময় লাগায় টিকিট সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে।

রেলস্টেশন সূত্র জানায়, নীলফামারী স্টেশন থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী রেলপথে একটি বেসরকারিসহ মোট ছয়টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে নীলফামারী স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যাত্রিটিকেট প্রদান করতে হয়।  

জেলার সৈয়দপুর ও চিলাহাটি স্টেশনে ‘কম্পিউটার  সিস্টেম’ স্থাপন করে যাত্রীরা ডিজিটাল সেবার প্রদান করা হলেও জেলা সদরের প্রধান ‘নীলফামারী স্টেশন’টিতে স্থাপন করা হয়নি কম্পিউটার সিস্টেম। ফলে এই স্টেশনের যাত্রীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে সেই পুরোনো আমলের ছাপানো টিকিট।

নীলফামারী স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম রতন বলেন, ‘ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপেসের শোভন শ্রেণি, রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেসের একই শ্রেণির জয়পুরহাট ও  পোড়াদহ এবং তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের জয়পুরহাটের ছাপানো টিকিট শেষ হয়েছে ১৫ দিন আগে। এ কারণে টাকা প্রাপ্তির রসিদের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সময় ক্ষেপনের পাশাপাশি নানা ভুল ভ্রান্তির ঘটনা ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় আড়াই মাস আগে টিকিটের চাহিদাপত্র প্রদান করা হয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে। সেটি সময়ের মধ্যে সরবরাহ না পাওয়ায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পাকশি) বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. ফুয়াত হোসেন আনন্দের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।