করোনাভাইরাস

প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ না যাওয়ার পরামর্শ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনের বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। একান্তই বিদেশে যেতে হলে ভ্রমণকালীন সতর্কতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে গতকাল রবিবার আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ সতর্কবার্তা দেন। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে চীন ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ থেকে সারা বিশ্বে ভ্রমণের জন্য এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে কোনো দেশের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। চীনের বাইরে রোগীর সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গেছে। চীন ভ্রমণ করেনি এমন লোকের আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। কোথা থেকে এটা সংক্রমিত হচ্ছে সেটাও এখন আর জানা যাচ্ছে না। ফলে করোনাভাইরাস নিয়ে পরিস্থিতি বৈশ্বিকভাবে জটিল হচ্ছে।

তিনি বলেন, অত্যাবশ্যক নয় এমন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যে কোনো বিষয়ে আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করে জেনে নেওয়া যাবে।

ভ্রমণকালীন সতর্কতার অংশ হিসেবে সেব্রিনা বলেন, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আছে এমন ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া, করমর্দন ও কোলাকুলি না করা, জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে হবে। তারপরও ভ্রমণ করার পর কারও মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

দেশে এখনো করোনায় কেউ আক্রান্ত হয়নি উল্লেখ করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, কেউ সংক্রমিত হলেও মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের আছে।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রেরিত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে ১ জন আইসিইউ এবং ৪ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন।

এ ছাড়া আইইডিসিআরের ল্যাবরেটরিতে এ যাবৎ সন্দেহজনক ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও নমুনাতে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। চীনের উহান থেকে ফেরত ৩১২ জনের সবাই সুস্থ আছেন।