সংখ্যায় আছে মানে নেই

উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে পাঠকদের। তবে মানসম্মত পান্ডুলিপি সংকটের কথা জানিয়েছেন প্রকাশকরা। কেউ কেউ আত্মকথনের গল্প লিখেও প্রকাশ করছেন। যেখানে লেখকের বেড়ে ওঠা, শৈশবের স্মৃতির বর্ণনা আছে। আত্মজীবনীমূলক এসব গ্রন্থকে গল্প, উপন্যাস বলে দাবি করছেন লেখকরা। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহিবুল আলম বলেন, ‘জীবনের চলমান ঘটনার বর্ণনা মানেই তো গল্প নয়। সেটাকে গল্প হিসেবে সাহিত্যগুণের আশ্রয়ে উপস্থাপন করতে হয়। কোনো কোনো তরুণ লেখকের বই দেখলাম, যেখানে নিজের শহরের বেড়ে ওঠার গল্প লিখেছেন। এটাকে আত্মজীবনী বলা যেতে পারে। কিন্তু সেটাকেই গল্পগ্রন্থ হিসেবে দাবি করেছেন লেখক। গল্প লেখার জন্য সাহিত্যের শক্তি দরকার হয়। সেই শক্তি নিয়ে কজন লিখতে পারছেন?’ বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল রবিবার বইমেলার ২২তম দিন পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ৩৭৮৫টি। যার মধ্যে উপন্যাসগ্রন্থ রয়েছে ৬০০টি, গল্পগ্রন্থ রয়েছে ৪৯৪টি। যার মধ্যে প্রথমা থেকে এসেছে আনিসুল হকের উপন্যাস ‘এখানে থেমো না’, কথাপ্রকাশ এনেছে হরিশংকর জলদাসের উপন্যাস ‘মৎসকন্যা’, অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হকের ‘টোপ’, নিশাত ইসলামের ‘তোমায় ভালোবেসে’, অন্যধারা এনেছে সাদাত হোসাইনের ‘অর্ধবৃত্ত’, চন্দ্রবিন্দু এনেছে রাসেল রায়হানের ‘অমরাবাতী’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে মাহতাব হোসেনের লেখা ‘নগরে সমুদ্র’। অন্যদিকে সময় প্রকাশন এনেছে রুমা মোদকের গল্প সংকলন ‘সেলিব্রেটি অন্ধকারের রোশনাই’, পেনসিল প্রকাশনী এনেছে ‘নদীর নাম ভেড়ামোহনা’, পরিতোষ বাড়ৈ এর ‘অগ্নি নারী’ প্রভৃতি। অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, ‘আমাদের তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ ভালো লিখছেন। কিন্তু কথাসাহিত্যের আরও বেশি চর্চা জরুরি।’ এদিকে গতকাল বইমেলায় এসেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘তৃতীয়বারের মতো বইমেলায় এসেছি এবং এ বছর শেষবার আসা। এর আগেও কিছু বই সংগ্রহ করেছি। এবার পছন্দের কিছু বই সংগ্রহ করেছি।’

তোফায়েল আহমেদের গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

এবারের গ্রন্থমেলায় প্রকাাশিত হয়েছে রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের লেখা বই ‘রক্তঝরা মার্চ ১৯৭১ : অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা’। এটি প্রকাশ করেছে জার্নিম্যান বুকস। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের ঘটনা অবলম্বনে রচিত বইটি উন্মোচন করা হয় রবিবার। একই সঙ্গে তারিক সুজাতের কাব্যগ্রন্থ ‘সুরের পথে একলা হাঁটি’ এবং নাজনীন হক মিমির লেখা ‘৬৯-এর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ও মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুভূতি প্রকাশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একাত্তরের পহেলা মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত নানা ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে বইটিতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণসসহ একাত্তরের মার্চ মাসের নানা ঐতিহাসিক ঘটনাকে মেলে ধরেছি এই বইয়ে।’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক প্রমুখ।

মূল মঞ্চ

রবিবার বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মুর্শিদা বিন্তে রহমান রচিত স্বাধীনতার পথে বঙ্গবন্ধু : পরিপ্রেক্ষিত ১৯৭০-এর নির্বাচন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করেন মুস্তাফিজ শফি। আলোচনায় অংশ নেন আখতার হুসেন, মাহবুব সাদিক ও আলম খোরশেদ। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন মুর্শিদা বিন্তে রহমান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। আলোচনা পর্বের পর কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি শামীম আজাদ, ফেরদৌস নাহার, আমিনুর রহমান সুলতান, মুস্তাফিজ শফি, প্রত্যয় জসীম ও সঞ্জীব পুরোহিত। সংগীত পরিবেশন করেন অপর্ণা খান, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, ডালিয়া সুলতানা, সুমন চন্দ্র দাস, মো. নূরুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও সৈয়দা কবিতা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন অভিজিৎ রায় (তবলা), হোসেন আলী (বাঁশি), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), সুমন কুমার শীল (দোতারা)।

এছাড়া ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মশিউল আলম, মাহবুব রেজা, রুমা মোদক, চাণক্য বাড়ৈ।  

নতুন বই

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রবিবার গ্রন্থমেলার ২২তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৫৪টি। এর মধ্যে ইউনিভার্সাল একাডেমি এনেছে ড. মাহবুব উল্লাহর ‘পূর্ব বাংলার বাম ও কমিউনিস্ট আন্দোলন ১৯৪৭-১৯৭১ : সাফল্য ও ব্যর্থতা’, কথাপ্রকাশ থেকে এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘ভালোবাসা-২’ ও ‘ভালোবাসা-৩’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে আনজীর লিটনের ‘ছড়াসমগ্র-৩’, সব্যসাচী এনেছে শামীম সাগরের নাট্যগ্রন্থ ‘অলকবন্ধন’, ভাষাচিত্র এনেছে ইউসুফ হাসান অর্কের ‘অভিনয়রীতি’ প্রভৃতি।

আজ সোমবার বইমেলার আয়োজন

আজ সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইমন জাকারিয়া রচিত ‘সাধক কবিদের রচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করবেন সুমনকুমার দাশ। আলোচনায় অংশ নেবেন নাসির আহমেদ এবং স্বকৃত নোমান। সভাপতিত্ব করবেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।