বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে অব্যাহত সহিংসতায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিহত বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক।
রবিবার শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভি জানায়, নজিরবিহীন এই সহিংসতায় নিহত বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবারও আইনটির সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের লোকজন পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরে জড়ায়।
এই সময় জানায়, অব্যাহত সহিংসতায় আহত হয়েছে দুই শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ। তাদের পুলিশ সদস্যও রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সহিংসতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, কারওয়ালনগরে ও চাঁদবাগে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় দাঙ্গাকারীদের ‘শুট অ্যাট সাইট তথা দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবারপুর, গোকুলপুরি, শিব বিহার ও জোহরি এনক্লেভ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। দিল্লির আরও ১০ জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে।
বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে এক আদেশে দিল্লি হাইকোর্ট সহিংসতায় আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ করে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। তার সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন মঙ্গলবার ভারতের সঙ্গে দেশটির ৩০০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি সই হয়।