তাপপ্রবাহে পুড়ছে দিল্লি

আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ব্যস্ততম বাজার ও সড়কগুলোতে কোথাও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানের ভেতরে স্বস্তির পরিবেশ থাকলেও বাইরে খোলা রোদে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে টিকে থাকার লড়াই করছেন কোটি কোটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক।

রিকশাচালক, হকার, ফল বিক্রেতা ও দিনমজুরদের মতো শ্রমজীবী মানুষদের জন্য এই গরম এখন শুধু একটি মৌসুম নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে কাজ চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেকে পানির ট্যাপ বা ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেও কাজ থামানোর সুযোগ নেই, কারণ কাজ বন্ধ মানেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘ, তীব্র ও অনিয়মিত হয়ে উঠছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর নিয়মিত সতর্কতা জারি করলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা মানা কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে যাদের জীবন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে কাজ করলে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিডনির ওপর চাপ এবং হিট এক্সহস্টেশনের ঝুঁকি বাড়ে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি ভাব ও বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে, যা উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি জীবনঘাতী হতে পারে।

এদিকে শহরের নিম্নআয়ের বহু মানুষ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিন ও প্লাস্টিকের ঘরে বসবাস করেন, যেখানে দিনের বেলায় জমে থাকা তাপ রাতেও সহজে বের হতে পারে না। ফলে রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেয়ে শরীরের ক্লান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে, যা পরদিন কাজের সক্ষমতাকে আরও কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের টানা তাপপ্রবাহ শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ভারতের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে। শ্রমঘণ্টা কমে যাওয়া এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির এই তীব্র গরমে শহরের একাংশ যেখানে আধুনিক সুবিধার মধ্যে স্বস্তিতে রয়েছে, অন্য অংশটি সেখানে জীবিকা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে প্রতিদিন শরীরের সীমা ছাড়িয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত