পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্প্রতি তৃতীয় শ্রেণির ছয়টি পদে ১১ জন কর্মচারী নিয়োগে জেলার প্রার্থীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। পঞ্চগড়বাসীর পক্ষে গতকাল বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয় ‘সচেতন আইনজীবীবৃন্দ’র ব্যানারে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি পদে ১১ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে এতে আবেদন করেন ৩ হাজার ১৪২ জন। পরে দুই দফায় ৭ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে ২০ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এতে যথাযথভাবে মানা হয়নি জেলা কোটা। আইনমন্ত্রীর জেলার চার বাসিন্দাসহ জেলা জজ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান ও নিকটাত্মীয়রা (অন্য জেলা) এতে প্রাধান্য পেয়ে নিয়োগ পান।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমান এ নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারি না। তবে নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা অসহায়। আমরা এ নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছি।’
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির জমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আমার মেয়ের চাকরি হয়েছে।’ কিন্তু কীভাবে চাকরি হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ কমিটির ওপর প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চগড়ের ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করেছেন। এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাই।’