‘অবৈধ যান বাণিজ্যের’ অভিযোগে বিক্ষোভ

শ্রীপুরে হাইওয়ে পুলিশের ওসির প্রত্যাহার দাবি

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ যান’ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মঞ্জুরুল হকের প্রত্যাহার দাবিতে গতকাল বুধবার সকালে মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন চালকরা।

পরিবহন চালকরা জানান, সরকার মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করায় এখন পোয়াবারো হাইওয়ে পুলিশের। তারা এখন মহাসড়কের নিরাপত্তার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ধরার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। গাড়ি থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, সকালে বা ভোরে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে জ্বালানি আনতে গেলে পুলিশ গাড়ি আটকে থানায় নিয়ে যায়। এছাড়াও মহাসড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে তারা। পরে সন্ধ্যা হলেই হাইওয়ে থানা এলাকায় দালাল চক্রের মাধ্যমে দরদাম করে গাড়ি ছাড়াতে হয়। পাঁচ মাস আগে মাওনা হাইওয়ে থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল ইসলামের যোগদানের পর থেকেই বেড়েছে পুলিশের নানা ধরনের বাণিজ্য ও অপতৎপরতা। ওসির নেতৃত্বে অর্ধশত সোর্স নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ এখন সড়কে বেপরোয়া।

সিএনজিচালক আক্তার হোসেন জানান, গত তিন মাস আগে জ¦ালানি নিয়ে ফেরার পথে মাওনা চৌরাস্তায় তার গাড়ি আটক করেন পিএসআই আইয়ুব আলী। পরে সোর্সের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। দরদাম শেষে কয়েক দিন পর স্ত্রীর কানের দুল বিক্রি করে পরিবহনটি ছাড়িয়ে নেন।

মাওনা উত্তরপাড়ার আলালউদ্দিন জানান, মহাসড়কের পাশে এমসি বাজার সংযোগস্থলের স্ট্যান্ড থেকে পুলিশের এক সোর্স গিয়ে তার ও সঙ্গে থাকা আরও পাঁচটি গাড়ির চাবি থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশের এসআই মারফত আলীকে এক হাজার টাকা করে দিয়ে প্রত্যেকেই গাড়ি ছাড়িয়ে নেন তারা।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যা হলেই হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়ক ঘেঁষে বসে হাজারো ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট।

অভিযোগের বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে ও থানার কোনো কর্মকর্তা কোনো ধরনের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। যারা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে তারা হয়তো কোনো অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিল, যা তাদের দেওয়া হয়নি।

হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুরের পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, মহাসড়কের তিন চাকার যান চলাচলের নিয়ম নেই। টাকার বিনিময়ে অবৈধ যান আটক করে ছেড়ে দেওয়ার কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।