সদ্য শেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। সরকারের পাশাপাশি ভোটারের কম উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপিও। এ অবস্থায় ভোটের দিন কীভাবে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কর্মপন্থা ঠিক করতে বলেছেন তিনি। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাখ্যাত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান।
চসিকের বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটের দিন ভোটারদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারও চিন্তিত। কিন্তু তাদের দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় কেন্দ্র দখল করে রাখে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কারণ একমাত্র তার হস্তক্ষেপ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও সরকারে কোনো কাজ হয় না।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট পড়েছে ২৫.৩ শতাংশ। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩০ শতাংশের মতো। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সিটি নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫ থেকে ৭ ভাগ, বাকিটা জালভোট। বিএনপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে এত ভোট পড়েনি। জনগণ প্রত্যখ্যান করেছে।
নিয়াজ মোহাম্মাদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সোমবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্কাইপের মাধ্যমে বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমার কাছে জানতে চান, ভোটকেন্দ্রে ভোটার কম আসে কেন? কীভাবে এর সংখ্যা বাড়ানো যায়? জবাবে আমি বলেছি, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে আমরা ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে পারব। এজন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাতে হবে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা অনেক ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে ভোটারদের আনতে পারলে বিএনপিরই লাভ। তাই চেষ্টা করতে হবে সবাই মিলে।’ চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৬ জন। এরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, সৈয়দ আযম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-নারী বিষয়ক সম্পাদক ডা. লুসি খান ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. এরশাদ উল্লাহ। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে ডা. শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
চসিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটের দিন ভোটার আনতে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া চট্টগ্রামে আমার জন্ম, পড়াশুনা এবং রাজনীতি। ছাত্রদল থেকে আজকে বিএনপির নেতা হয়েছি। চট্টগ্রামের জনগণ আমাকে হতাশ করবে না। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা লাগবে। প্রশাসন সহযোগিতা করলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাঁড়াতে পারবে না। আমার সামনে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাদের সহযোগিতা লাগবে। লাগবে ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীদের সহযোগিতা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যথাযথ নির্দেশনা দিলে তারা সবাই কাজ করবে। ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে হবে। লড়াই করে টিকে থাকতে হবে।’
বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রাজপথে গণসংযোগের সময় এখনো শুরু হয়নি। অথচ এখনই প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আমাকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সংবর্ধনা দিতে চাইলেও পুলিশের অনুমতি না থাকায় সংবর্ধনা দিতে পারেনি রেলওয়ে স্টেশনে। অথচ আওয়ামী লীগের প্রার্থী চট্টগ্রামের নেতারা রেলওয়ে স্টেশনে সংবর্ধনা দিয়েছেন।