ঢামেকে সফল অস্ত্রোপচার

বাড়ি ফিরল সেই ‘প্যারাসাইটিক টুইন’ শিশু

অপূর্ণাঙ্গ যমজের দেহের অংশ অঙ্গে নিয়ে জন্ম হয়েছিল এক মাস বয়সী আবদুল্লাহর। সফল অস্ত্রোপচারে সেসব বাড়তি অংশ ফেলে দিয়ে সুস্থ-সবল আবদুল্লাহকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ পরিবারের কাছে শিশুটির ছাড়পত্র তুলে দেয়।

গত ২৫ জানুয়ারি নোয়াখালী সদর উপজেলার এসবালিয়া গ্রামে পারভীন আক্তার ও সালাউদ্দিন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় আবদুল্লাহ। তবে অপূর্ণ যমজের দেহাংশ অঙ্গে নিয়ে জন্মানোয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢামেক হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের শিশুকে ‘কনজেনিটাল প্যারাসাইটিক টুইন’ বা জোড়া অপূর্ণাঙ্গ যমজ বলা হয়। এটিই আমাদের প্রথম সাফল্য নয়। এর আগে ২০১৬ সালে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এ রকম একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেটিই প্রথম সফল অস্ত্রোপাচার ছিল। তিনি বলেন, এ শিশুটির নাম আবদুল্লাহ। তার অবস্থা একটু ব্যতিক্রম। আবদুল্লার ভুঁড়ি পেটের বাইরে ছিল। এজন্য আমাদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। পরজীবী শিশু মূল শিশুটির পুষ্টি নিয়ে নিচ্ছিল। অপূর্ণ দেহের অংশটিতে দুই হাত, দুই পা, কিডনি, অ-কোষ, নিতম্ব ও আলাদা পায়খানা-প্রস্রাবের রাস্তা ছিল। শুধু মস্তিষ্ক ও বুকের অংশ ছিল না। আমরা শিশুটির সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। আবদুল্লাহর ভেতরে আর কোনো অতিরিক্ত অঙ্গ নেই। সে বড় হলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সে এখন সুস্থ ও মায়ের দুধ খাচ্ছে।

শিশুটির বাবা সালাউদ্দিন একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ও মা গৃহিণী। এটিই তাদের প্রথম সন্তান। আবদুল্লাহর সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় তিনি ঢামেক পরিচালক ও চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, বাড়িতে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় শিশুটি। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ২৮ জানুয়ারি তাকে নিয়ে আসা হয় ঢামেক হাসপাতালে।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, এটি একটি বিরল অস্ত্রোপচার হয়েছে। দেশে এই ধরনের দ্বিতীয় শিশুর অস্ত্রোপচার এটি। ১৬ ফেব্রুয়ারি শিশুটির অস্ত্রোপাচার করা হয়। এটি আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের সফলতা।